টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাজিরহাট বাজারে মাছ বিক্রি বন্ধ !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন নাজিরহাট বাজারে আজ (রোববার) সকাল থেকে কোন প্রকার মাছ বিক্রি বন্ধ রেখে ধর্মঘট ডেকেছে নাজিরহাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মাছ ব্যবসায়ীদের সড়কের পাশ থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া ও যথাস্থানে পূনর্বাসন না করার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট পালন করছে তারা।

মাছ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে সকাল থেকে কোন প্রকার মাছ বেচা কেনা করতে দেখা যায়নি। এমনকি বাজারে মাছ বেপারিরা কোন মাছ নিয়ে আসেননি। তাদের দাবী তাদেরকে উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেও তাদের ব্যবসা করার জন্য কোন প্রকার জায়গা নির্ধারণ করে দেইনি।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারের ভেতর হালদা খালের পাড়ের উপর চলাচলের সড়কের দুই ধারে মাছ বিক্রি করে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। কয়েকবছর পূর্বে সেখানে মাছ বিক্রির জন্য একটি সেড নির্মাণ করে দেয় বাজার কর্তৃপক্ষ। ওই সেডে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন বিক্রেতা বসতে পারেন। কিন্তু প্রতিদিন এ বাজারে ৪০ জন বিক্রেতা নিয়মিত মাছ ব্যবসা করেন। বাকী ত্রিশজন বিক্রেতা সড়কের ধারে বসে ব্যবসা করে আসছিলেন। বাজার বারে প্রায় দেড়শজন মাছ বিক্রেতা মাছ বিক্রি করতে আসেন।

গত কয়েকদিন আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট জামিরুল ইসলাম এখানে এসে সড়কের ধারে কোন প্রকার মাছের দোকান বসতে পারবে না বলে নির্দেশ দেন। সড়কের ধারে দোকান বসানোর দায়ে একই দিনে কয়েকজনকে জরিমানা করেন।

সেকান্দর, মুহাম্মদ মিয়া, দুলাল, রুবেল, জানে আলমসহ একাধিক মাছ বিক্রেতা বলেন, প্রশাসন বলেছে সেডে মাছ বিক্রি করতে। কিন্তু সেখানে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন বিক্রেতা বসতে পারে। বাজার বারের ব্যবসায়ীদের কথা বাদ দিলাম; আমরা যারা নিয়মিত এখানে মাছ বিক্রি করে আমরা কোথায় বসব ? কিভাবে আমাদের সংসার চলবে ? আমাদের কাছ থেকে ইজারাদাররা প্রতিদিন টাকা নেন, কিন্তু তারা আমাদেরকে এটি কোন প্রকার সূরাহা করছেন না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধর্মঘট পালন করছি। যতক্ষন আমাদেরকে পূনর্বাসন করা না হবে ততক্ষণ এ ধর্মঘট চলবে।’

মো. শহীদুল ইসলাম খোকন নামক এক মাছ ক্রেতা এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকার তাদের কাছ থেকে ইজারা দিয়ে টাকা নেয়, কিন্তু তাদের বসার স্থান কেন ঠিক করে দেবে না ? আমরা ক্রেতারা কেন তার জন্য ভোগতে হবে ?

বাজারের ইজারাদার মো. ইসমাইল বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সাথে খুব শীঘ্রই বসব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাজিরহাট পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের নের্দেশের মধ্যে কিছুটা ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে। প্রশাসন মূলত যত্রতত্র মাছ বিক্রি না করে এক জায়গায় বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত