টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে নোংরা-আবর্জনাপূর্ণ পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারী পন্য

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): সীতাকুণ্ডে নোংরা-আর্বজনাপূর্ন পরিবেশে অহরহ বেকারীর খাবার পন্য তৈরী হচ্ছে বেকারী প্রতিষ্ঠান সমূহে। আর প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত নানা রোগে-আক্রান্ত হতে হচ্ছে সর্ব সাধারণকে। অথচ দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান সমুহে অসাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পন্য তৈরী করে চললেও নজরধারী নেই প্রশাসনের। ফলে কোনো প্রকার নিয়ম মানার প্রয়োজন মনে করছে না বেকারী মালিকরা।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী দারগাহাট হতে সিটি গেইট এলাকায় বেকারী খাদ্য পন্য উৎপাদন করে প্রায় ৩০টি বেকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি বাজারের একাধিক পরিমানে বেকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও অধিকাংশই চলছে যেনতেন নিয়মে। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় উৎপাদিত খাদ্য পন্যে গ্রহনে বাড়ছে চরম স্বাস্থ্য ঝুকি। তথ্যমতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রোগীর মধ্যে পেটের পীড়াজনিত রোগীর সংখ্যা রয়েছে সর্বাধিক। আর ভেজাল খাবার গ্রহনের কারণে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরুল করিম রাশেদ বলেন,‘ পেটের পীড়াজনিত রোগগুলো ভেজাল খাবারে কারণে হয়ে থাকে। বিশেষ করে নিন্ম আয়ের মানুষগুলো চায়ের দোকানে বেকারী খাবার গ্রহন করায় গেষ্ট্রিক-আলসার,ডায়রীয়াসহ আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে। এসব সস্তা খাবার উৎপাদনকরী প্রতিষ্ঠাগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাদ্য পন্য তৈরী করলে এ ধরনের ভেজাল হতে কিছুটা মুক্তি পেত সাধারণ মানুষ।

এদিকে খাদ্য পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেখবালে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই না তারা। বরং মাসিক মসোয়ারায় ম্যানেজ থাকায় নজরধারীর প্রয়োজন পড়ে না বলে জানান বেকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

পৌরসদর নামার বাজারের তিতাস বেকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মো.মাসুদ বলেন,‘ প্রশাসনের লোকজন প্রতি মাসে আসে,দেখে আর চলে যাই। কেন,আসে যাই তা নিচ্ছই বোঝেন। আর এ করণে লাইসেন্স ও আইন-কানুন ছাড়ায় বছরের পর বছর ধরে চলছে সকল বেকারী প্রতিষ্ঠান।

এভাবে তদারকি ছাড়া বেকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ চলতে থাকায় কোনো নিয়ম তোয়াক্কা করছে না বেকারী মালিকরা। তবে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতার অভাবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান উপজেলা নিরাপদ খাদ্য ও স্যানেটারী র্কমকর্তা জাহেরুল হক।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভূমি) রুহুল আমিন বলেন,‘ প্রশাসনিক অন্যন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন সম্ভব হয়ে উঠে না।’ খুব শিঘ্রয় সময় বের করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ বেকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মতামত