টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাহাড়ে শীতের তীব্রতা বাড়ছে, হতদরিদ্রদের দূর্ভোগ চরমে

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):‘পাহাড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ফলে হত-দরিদ্র সংসারে চলছে দূর্ভোগ। গরম কাপড়ের অভাবে রাতের ঘুম যেমন হারাম,তেমনই পল্লীতে পল্লীতে শীতজনিত রোগের প্রাদূর্ভাব বাড়ছে। সব মিলিয়ে পার্বত্য জনপদে শীতার্তরা শান্তিতে নই। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু সংখ্যক এলাকায় কম্বল বিতরণ হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠি এখনো বঞ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌষ মাসের শুরুতেই পার্বত্য জেলাগুলোতে শীত পড়তে শুরু করেছে। শুরুতে শীতের প্রকোপ কম হলেও বর্তমানে পুরোদমের শীতে গরীবের আরাম কেড়ে নিচ্ছে। সন্ধ্যা হতে না হতেই পাহাড়ের দরিদ্র জনগোষ্টির লোকজন খেঁড় কুটো নিয়ে ঘরে কিংবা উঠানে আগুনে তাপ নিতে শুরু করেন। পার্বত্য খাগড়াছড়ির জনপদগুলোতে হত-দরিদ্র মানুষ শীতের কষ্টে রাত্রীযাপন করলেও সে খবর এখনো জনপ্রতিনিধিরা হয়তো পায়নি! শুধু সেনাবাহিনী ও প্রশাসন ছাড়া এখনো পর্যন্ত বড় আয়োজনে কেউ শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেনি।

শীতের তীব্রতায় জন মানুষের দূর্ভোগ বাস্তবে দেখতে গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিনিতা রানী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কিছু কম্বল নিয়ে সরেজমিনে বের হন। সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন এ প্রতিবেদক। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর উপজেলার ছদুরখীল হেডম্যানপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল ঘরে ঘরে নিরবতা। কোন সূর,শব্দ নেই। এ সময় সাথে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাব্রেচাই মারমা ও মো. আবদুল মোমিন। তাঁদের সহায়তায় উচামং মারমা, নাইউসং মারমা, আপংমা মারমা, উক্রই মারমা, ক্রাইউরী মারমা, আপুমং মারমা, পাইসানু মারমা, পাইউয়া মারমা, উগ্য মারমা,¯œা অং মারমার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল ভাঙ্গাচুরা ঘর, চারিদিকে খোলা, হু হু করে ঘরে বাতাস ঢুকছে। বয়োঃবৃদ্ধরা ঘরে আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছে। আবার অনেকে চাদর মুড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। এক চাদরের নীচে ২/৩জন ছেলে-মেয়ে। এ যেন এক দূর্বিসহ জীবন। ইউএনও বিনিতা রানী নিজ হাতে এসব দরিদ্রদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে গায়ে জড়িয়ে দিলেন শীতের কম্বল। এ সময় খুশিতে আত্মহারা গৃহীনিরা ইউএনও’কে জড়িয়ে ধরলেন। উপজাতি (মারমা)ভাষায় বললেন, জীবনে কোন দিন এভাবে কেউ আমাদের পাশে আসেনি! অতিথিদের বসতে দিতে পারিনি,তাই খারাপ লাগছে। ভগবান তাঁদেরকে বাঁচিয়ে রাখুক।

পরে গত ২ ও ৪ জানুয়ারী মানিকছড়ি সদর ইউপি’র দেড় শতাধিক এবং তিনটহরী ইউপির আড়াই শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্ধ থেকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রেরিত কম্বল থেকে এসব বিতরণ করছেন সংশ্লিষ্ঠ ইউপি’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন। উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা, ইউএনও বিনিতা রানী, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান ফারুক ও মো. রফিকুল ইসলাম বাবুলসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য।

এছাড়া জেলার মহালছড়ি, গুইমারা, ল²ীছড়ি, মাটিরাঙ্গায় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দরিদ্র অনুপাতে শীতবস্ত্র বিতরণের সংখ্যা নগণ্য।

এদিকে খোলা বাজারের গরম কাপড়ের দোকানে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। দরিদ্ররা ক্ষেতের শাকসবজি,ধান,গরু-ছাগল,হাঁস-মুরগী বিক্রি করে শীতের কমদামী লেপ, গরম গেঞ্জি,চাদর কিনতে ভড়ি জমাচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভবান হচ্ছে শীতের কাপড় বিক্রি করে। মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিনিতা রানী বলেন, শীতার্ত জনগোষ্টির এ বিপদে সকলের উচিত পাশে দাঁড়ানো। সরকারিভাবে প্রাপ্ত কিছু কম্বল ইতোমধ্যে সরেজমিনে বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে বিতরণ করা হয়েছে। যদি আরো কম্বল আসে তাহলে এভাবেই প্রকৃত শীতার্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মতামত