টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোন দেশ জিএসপি দিলো না দেখার দরকার নেই যাত্রা শুরু হয়েছে

চট্টগ্রাম, ০১ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: রপ্তানিপণ্যের বহুমুখীকরণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন দেশ জিএসপি দিলো নব না দিলো তা দেখার দরকার নেই। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে ধর্ণা না দিয়ে খুঁজে বেড়ান অন্য কোনো জায়গা। ওরা আপনার পেছনে দৌঁড়াবে।’

সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানের পর পরই রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই সম্মেলনকেন্দ্রের পাশের ময়দানে উদ্বোধন করা হয় বাণিজ্যমেলা। প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসার পরই এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

২১ দেশের অংশগ্রহণ এই মেলায় ১৩ ক্যাটাগরির মোট ৫৮০টি স্টল থাকবে। এর প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ৩০ টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদেরকে গতানুগতিক কিছু জিনিসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে কীভাবে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করা যায়, নতুন নতুন পণ্য কীভাবে আরও তৈরি করা যায় সেই দিকেই নজর দেয়া উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এফবিসিসিআইয়ের একটা সেল থাকা উচিত। যাদের কাজ হবে গবেষণা করা। কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা, সেই পণ্য উৎপাদন করার যোগ্যতা আমাদের আছে কি না বা আমরা পারি কি না, কাঁচামাল আছে কি না, বা সেগুলো আমদানি করা বা যন্ত্রপাতি আমদানি করা যেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশ আছে। কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা আছে, সেটা দেখা দরকার। বাংলাদেশের মানুষ এতো যোগ্য, তাদের মেধা এতো ভালো, একটু সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে তারা সেটা উৎপাদন করতে পারে। সেই সক্ষমতা বাংলাদেশের মানুষের আছে। তাদের শুধু পথ দেখাতে হবে।’

মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা এই পণ্য বহুমুখীকরণে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই মেলায় বিভিন্ন দেশ তার পণ্য নিয়ে আসবে। আপনারা সেখান থেকে নিজেরা অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, তারাও অভিজ্ঞতা নেবে আমাদের দেশের । এই যে অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে, আমাদেরকে পণ্য বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে।’

উৎপাদনের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

রপ্তানি বাড়াতে সরকার নানামুখী চেষ্টা করছে জানিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে পণ্যের মানের দিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদেরকে বলবো আপনাদেরকে উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান যেন বজায় থাকে এবং পণ্য যেন বাজারজাত করার মতো উপযুক্ত হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেই বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছেন, আপনারাও আপনাদের পার্টনার খুঁজে নিতে পারেন। যেখানেই যাচ্ছি, আজকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে সকল দেশই আগ্রহী। বড় বড় দেশগুলো বিশাল অংকের অর্থ আজ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। সেই সুযোগটা আপনাদেরকে নিতে হবে।’

চামড়াকে বার্ষিক পণ্য ঘোষণা

রপ্তানি আয় বাড়াতে চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। উদীয়মান চামড়া শিল্পের অন্তর্নিহিত সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ২০১৭ সালের জন্য চামড়া ও পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যকে জাতীয়ভাবে বার্ষিক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চামড়া খাতে রপ্তানি প্রায় ৭১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই খাতে এক হাজার ১৬০.৯৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো চামড়াজাত পণ্য এখন বাংলাদেশে প্রস্তুত হচ্ছে। এই পণ্যে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য সংযোজন সম্ভব হচ্ছে।

মতামত