টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে হারবাল ও আয়ুর্বেদিক ওষুধের মিশ্রণেও ভেজাল

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ৩০ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: হারবাল-ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ওষুধের মিশ্রণেও ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। এক শ্রেণীর অসাধু পাইকারি ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে এই ওষুধের কাঁচামালেও নিম্মমাানের উপকরণ ও অপদ্রব্য মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছে।

কাঁচামাল সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান না থাকায় এসব পণ্য কিনে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসা পেশায় জড়িত বিশেষজ্ঞরা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িতরা এ কাজে জড়িত।

জানা গেছে, প্রাচীনকালে মানুষের নানা রোগের চিকিৎসায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল একমাত্র অবলম্বন। আধুনিক সমাজে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি জনপ্রিয় হলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় দেশের একটি নির্দিষ্ট অংশ এখনো আয়ুর্বেদিকের (কবিরাজি) ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ওষুধের কাঁচামালে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা সহজলভ্য কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভেজাল না করলেও দু®পাপ্য কাঁচামালে ভেজাল উপকরণ ব্যবহার করছে।

এ খাতের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, চন্দন কাঠ, ত্রিফলা, চিরতা, নীমপাতা, নীমগাছ, ইসুপগুল, তুকমা, জঙ্গি হরীতকী, জ্যাষ্ঠমধু, শুকনা বেল, আমলকী, মনশাল জাতীয় দ্রব্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে প্রকৃত ঔষধিগুণ স¤পন্ন দ্রব্য না দিয়ে ভেজাল ও নিম্মমানের উপকরণ বিক্রি করা হয়। এতে মারাতœক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে বলে স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনানি-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার বিভিন্ন উপকরণ বিক্রির জন্য চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, বক্সিরহাট ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে বেশকিছু পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ঔষধি গুণস¤পন্ন বিভিন্ন উপকরণ কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এখানে বিক্রীত পাঁচ শতাধিক উপকরণের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই ভেজাল।

তারা উন্নত মানের চন্দন কাঠের পরিবর্তে কম দামি বিভিন্ন গাছের কাটা অংশ, নীম গাছের খন্ডিত অংশের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গাছের অংশ, ইসুপগুলের ভুষির সঙ্গে সাদা গুড়োর মিশ্রণ, কেমিক্যাল মিশিয়ে কস্তুরী, ঘৃতকুমারী, উলট কমল, জয়পাল, কালোজিরা বিক্রি করছেন। অন্যদিকে কুমিরের দাঁত হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে কুকুরের দাঁত, স্বর্ণসিঁদুর, সমুদ্রের শৈবাল, ভল্লুকের লোম, বিভিন্ন প্রাণীর হাড় প্রতারণার মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল চিকিৎসার নামে বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার বাড়ছে। পারদ, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, গন্ধক, বিøচিং পাউডার, স্যাগারিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ত্বকের চিকিৎসায় ব্যবহার করে আসছে সাধারণ মানুষ। মূলত করিবাজি ও ভেষজ চিকিৎসার নামে একশ্রেণীর অননুমোদিত চিকিৎসা কেন্দ্র এ কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স মাখন লাল বণিকের কর্ণধার স্বপন কুমার বণিক সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, মূলত ভারত ও চীন থেকে ভেষজ চিকিতসায় ব্যবহৃত ওষুধের কাঁচামাল আমদানি হয়। আবার অনেক কাঁচামাল দেশেও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো কাঁচামালে ভেজাল মেশান না। তবে আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা কবিরাজি প্রতিষ্ঠানগুলো এ কাজে জড়িত কিনা, এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি।

ওষুধ প্রশাসনের হিসাব মতে, দেশে ওষুধের বাজারের ২৫ শতাংশ ভেষজ ওষুধের দখলে। আয়ুর্বেদিক-ইউনানি ও হারবাল ওষুধ উতপাদনের অনুমোদন রয়েছে ৪৫০টি প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরেও কয়েক হাজার অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান হাঁপানি, জন্ডিস, চর্ম ও যৌন রোগ, বাত-ব্যথা, রঙ ফর্সা, মোটা হওয়ার ওষুধ তৈরি করে বিক্রি করছে, যা মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, দেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের আয়ুর্বেদিক-হারবাল ও ইউনানি ওষুধ তৈরির সনদ রয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও অনেক প্রতিষ্ঠান ওষুধ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে ভেষজ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে এখনো সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ভেজাল ওষুধ বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মতামত