টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাচ্চাদের হতাশ করবেন না: শিক্ষামন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৩০ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: : বাচ্চাদের হতাশ করবেন না বলে অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, “দয়া করে বাচ্চাদের নিরুৎসাহিত করবেন না। আমাদের ভুল থাকলে ধরিয়ে দেন। জ্ঞানবানদের কাছে অনুরোধ, বাচ্চাদের হতাশ করবেন না।”

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক-কর্মচারীদের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আগে পঞ্চম শ্রেণিতে দুটি পরীক্ষা হতো। বৃত্তি পরীক্ষা আলাদাভাবে নেওয়া হতো। এখন আমরা পরীক্ষা কমিয়ে কমিয়ে একটি করেছি, বৃত্তি পরীক্ষা আলাদাভাবে নেয়া হয় না। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় যারা ভালো করছে তাদেরকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “তবে এক শ্রেণি এই পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনা করে। কারা করেন যাদের বাচ্চা বিদেশে পড়ে, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে পড়ান তারা। বাংলাদেশে গরিব মানুষের বাস। সবাইকে পড়াতে হবে। এই যুক্তি তারা মানতে চান না। কারণ তাদের ছেলে-মেয়ে তো বিদেশে থাকে। দেশে কম আসেন। যদি দুটি পরীক্ষা না থাকত, তাহলে তারা দেশেই আসত না।”

মন্ত্রী বলেন, “আবার একশ্রেণির জ্ঞানী আছেন, যারা পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেই এর সমালোচনা করেন। তাদের কাজই হলো আমাদের বাচ্চাদের নিরুৎসাহিত করা, হাতাশ করে দেয়া। ফল প্রকাশ হলেই এরা টেলিভিশনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বলেন কিছুই হয়নি, কিছুই হয়নি। বলেন এসএসইসি, এসচএসইসির মানটাই না কি দেখানো মান।”

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “এই জ্ঞানবানদের বলবো আমাদের ভুল থাকলে ধরিয়ে দেন। কীভাবে বাচ্চাদের ভালো আরো ভালো করে শেখানো যায়, শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করা যায়। এই গাইড বই, নোট বই, কোচিং বাণিজ্য আর থাকবে না আমরা আইন করছি। সব বন্ধ করে দেয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আবার আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন ক্লাসে পড়ান না, কিন্তু বাসায় টাকার বিনিময়ে পড়ান। এসব চলবে না। শিক্ষক হয়ে শিক্ষকের মর্যাদা রাখতে হবে। শিক্ষকরা আমাদের মাথার মণি।”

মন্ত্রী বলেন, “বাচ্চাদেরকে বোঝানো হচ্ছে জীবন দিলে বেহেস্তে চলে যাবে। যদি এতই পাওয়া যায় তুমি আগে জীবন দাও না কেন? নিজেরা মরে না কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে মৃত্যুর দিকে। কেন করা হচ্ছে? আমাদের দেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য। সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।”

১ জানুয়ারি বই উৎসব করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “গতবার ১ জানুয়ারি শুক্রবার ছিল, তারপরও আমরা সব স্কুলে একযোগে ওই দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছি। এবারও ১ জানুয়ারি বই উৎসব করা হবে।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ৫৭৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে কল্যাণ ও অবসর সুবিধা বাবদ প্রায় ২৪ কোটি টাকার চেক দেয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হয়।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

জেএসসির ফলের সারসংক্ষেপ: জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার তিন বছরের মধ্যে এবার বেশি। ২০১৪ সালে মোট পাস করেছিল ৮৯.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর তা বেড়ে ৯২.৩১ শতাংশ হয়। এবার সেখানে পাসের হার ৯২.৮৯ শতাংশ। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট অংশ নিয়েছে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৬ জন। এর মধ্যে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৯৯ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯। গত বছর ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০২ জন।

এ বছর জেএসসিতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী, পাসের হার ও জিপিএ-৫ তিনটিই বেড়েছে। পাসের হার বেড়েছে দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ বেড়েছে ৪৭ হাজার ৫৫৭টি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৪ হাজার ২১৭ জন এবং উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ হাজার ৭২৬ জন। ২ হাজার ২টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৯ হাজার ৬৮৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ হাজার ২৪৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে। একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা প্রতিষ্ঠান ৮টি।

পিইসির ফলের সারসংক্ষেপ: পিইসি পরীক্ষায় পাসের হার সামান্য কমেছে। জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এবার এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ জন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩২ জন। গত বছর ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৪ জন। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৫২ ভাগ। এবার তা ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০১৪ সালে যা ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ ভাগ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন। এবার এই সংখ্যা ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে বরিশাল বিভাগ। আর সবচেয়ে কম পাস করেছে সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বরিশাল বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৯.০৯ ভাগ। সিলেটে পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৫ভাগ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত