টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ইজতেমা: মুসল্লির পদভারে মুখরিত ইজতেমা মাঠ

হাটহাজারী প্রতিনিধি
সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ২৯ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: মুসল্লিদের মধ্যে কেউ শামিয়ানার ভেতর বসে বয়ান শুনছেন, আবার কেউ জিকিরে মুশগুল আছেন। তার মধ্যে অনেকে মাঠের পাশে তার সাথী ভাইদের (মুসল্লি) জন্য দুপুর ও রাতের খাবার তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানান পটিয়া উপজেলা থেকে আসা মাওলানা মো. ইসমাইল হোসেন।

ঢাকাস্থ টংগীর বিশ্ব ইজতেমায় স্থান সংকোলন না হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমা কমিটির আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাটহাজারী উপজেলায় আজ বৃস্পতিবার থেকে প্রথম বারের মত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহনে তিন দিন ব্যাপী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। ফজর নামাজের পরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে ইজতেমাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন ইজতেমা মাঠে। এতে বিদেশিদের আগমণ চোখে পড়ার মত। ভারত, চীন, কাতার, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্দান, মিশর, কুয়েত ও দুবাই সহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক বিদেশি মেহমানও ইজতেমায় সর্তেজফূতভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আগামীকাল শনিবার সকালে আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায়ও হাটহাজারী উপজেলা ও উপজেলার পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে মুসল্লিদের শুকনো খাবার, বিছানাপত্রসহ নানা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ইজতেমায় আসা অব্যাহত রেখেছে।

ইজতেমা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা মুফতি জসিম গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, আজ ফজরের নামাজের পর পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের মাওলানা রিজোয়ান আমবয়ান শুরু করেন। তারই পার্শ্বে মঞ্চে উপবিষ্ট মুফতি শাহেদ ওই মাওলানার উর্দুতে আমবয়ান বাংলাতে তরজমা করেছেন। আর এ বয়ান ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত করা হয়। এরপর শুরু হয় মুসল্লিদের মধ্যে তালিম। এ সময় প্রতিটি গ্রূপে ১০-২৫ জন করে তালিমে অংশ নেন। এভাবে জোহর, আছর, মাগরিব ও এশার নাজের পর তাবলিগ জামাতের মুরিব্বরা বয়ান করেন। আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত বিশিষ্ট আলেম ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বিরা ইমান, আমল, আখলাক, ইহকাল ও পরকালসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করেন।

তিনি আরো জানান, ইজতেমা উপলক্ষ্যে চারিয়া গ্রামের ১৩১ একর জায়গাজুড়ে ১০ লাখ মুসল্লির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার ও মোনাজাতের দিন এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইজতেমা মাঠের আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠেছে তিন শতাধিক ভাসমান দোকান। এসব দোকানে খাবার, শীতের কাপড় ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব দোকান গুলোতে পন্য মান ও দাম স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল অব্যাহত রেখেছে।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, ইজতেমার নিরাপত্তায় পাচঁ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো অপ্রীতির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক চিত্র জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা কন্ট্রোল রুমে বসে ইজতেমার সার্বিক বিষয়ক পর্যবেক্ষণ করছেন।

মতামত