টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জনগনের দাবী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ বাদামতলী মোড়ে অবিলম্বে ফুট ওভার ব্রীজ

মোহাম্মদ ইমরান

ছবিঃ মোহাম্মদ ইমরান

চট্টগ্রাম, ২৯  ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: মানুষের জন্যই আইন কানুন, আবার সেই মানুষই আইন কানুন ভঙ্গ করে। তবে সবচেয়ে চিরসত্য এই পৃথিবীটার সৃষ্টিটাই হচ্ছে মানুষের জন্য। পৃথিবীর সকল জনগণের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার।বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র আইন দ্বারা বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে স্বাভাবিক চলাচলের যেরূপ অধিকার রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের নিকট থেকে ১৯(১), ১৯(২) ও ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও সমান সুযোগ লাভের অধিকারী। এরই সাথে ‘সিটি করপোরেশন আইন ধারায় পথচারীর নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ চলাচল এর জন্য করপোরেশনকেই (কর্তৃপক্ষ) ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তেমনি ১৯৭৬’ এর ৬৬ ও ৬৭ ধারায় পথচারীর পথ চলার বিষয়েও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ছাড়া ‘জাতীয় সমন্বিত বহুমাধ্যভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা, এসব আইনের বিধি-বিধান পালন না করে বা আমলে না নিয়ে জনগণের স্বাভাবিক চলাচলকে বাধা দিয়ে তাদের ওপর জোর-জবরদস্তি করা মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারকেই তোয়াক্কা না করা। তাই কর্তৃপক্ষকে এইভাবে চলাচল শুধু নিয়ন্ত্রণ করলেই চলবে না, করতে হবে স্বাভাবিক ও নিরাপদ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও।

একটি ভাল শহর গড়ে তোলার দর্শনকে দুই শব্দে সংক্ষেপে প্রকাশ করা যায়, সকলের শহর”। আর একটি শহর তখনই “সকলের” হয়, যখন সেই শহরের নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মনীতি নির্ধারণে শহরের সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা ও রীতি চালু থাকে। সেই অংশগ্রহনই নিশ্চিত করবে শহরটিকে এর মানুষজন কতটা আপন করে নিতে পারবে। ঠিক হবে শহরটির ভবিষ্যত কোন দিকে যাবে।তাই সবার আগে মানুষের নিরাপত্তার চিন্তা সবার আগে।যদি তাই হয় তাহলে কেন চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সংযোগ সড়ক বাদামতলী মোড়ের এ অবস্হা। এই পয়েন্টে চারটি রাস্তার মিলন মুখ।যেখান দিয়ে দৈনিক কয়েক লক্ষ যানবাহন সহ লাখ লাখ মানুষের চলাফেরা। কিন্তু তারা জীবনের যুকি নিয়ে ঠিক রাস্তার মাঝ পথ দিয়ে ছুটে চলে গন্তব্যে।

ছবিঃ মোহাম্মদ ইমরান

আকস্মিক দূর্ঘটনা এড়াতে ফুট ওভারব্রীজ রাস্তা পারাপারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এক কথায়, যে কোন ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে এর ব্যবহার করা অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সড়কের ফুট ওভার ব্রীজ থাকলেও এর ব্যবহার একে বারেই নেই। যা তীর আছে তরী নেই এর মত অবস্থা। আবার এমন সব জায়গায় এই ফুট ওভার ব্রীজ আছে যেখানে ফুট ওভার ব্রীজ এর কোন প্রয়োজনই নেই। অথচ অপচয় কোটি টাকা। বিভিন্ন এলাকায় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বন্দর কলোনী আবাসিক এলাকা গেইট সংলগ্ন ফুট ওভার ব্রীজ, কাষ্টমস্ হাউস সংলগ্ন একটি, ফকির হাট সংলগ্ন গেইট,বন্দর কলোনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ফুট ওভার ব্রীজ এর কোন প্রয়োজনই নেই, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েই আছে। জনকল্যাণের প্রয়োজনেই ঐ সমস্ত ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও সন্ধ্যা হলেই ঐ সব স্থানে মাদক সেবি ও অবৈধ কাজ করায় লিপ্ত থাকে এক শ্রেণীর সন্ত্রাসীরা। আবার চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও নিউ মার্কেট এলাকায় দুটি ওভার ব্রীজ থাকলেও কোন ধরনের ব্যবহার নেই পড়ে আছে একেবারেই পরিত্যক্ত অবস্থায়। যেখানে কর্তৃপক্ষ একেবারেই নির্বীকার। অনেক সময় ছিন্ন মূল মানুষেরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ছুটে যায় সেখানে, ফলে সবসময় ময়লা ও দূর্গন্ধ লেগে থাকে। এ সমস্ত এলাকায় কিছু ব্যবসায়িক সমাজের প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায় এ ব্রীজ গুলো এভাবেই পড়ে আছে দেখার কেউ নেই প্রশাসন যদি একটু নজর দেয় তাহলে ঐ ব্রীজগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে আসতে পারে। যেখানে ফুট ওভারব্রীজের কোন প্রয়োজন নেই। সেগুলো অনতিবীলম্বে অপসারন করে দূর্গম ও বিভিন্ন গ্রামে যেখানে কোন পারাপারের ব্যবস্থা নেই, সে সমস্ত জায়গায় স্থাপন করা হলে হয়ত তার সুফল পাওয়া যাবে,ঠিক তেমনি একটি গুরুত্ব পূর্ন সড়ক সংযোগ স্হান আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়। যেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের ট্রাপিক পুলিশরা নিয়ন্ত্রনে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাই চট্টগ্রাম নগর পিতার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন এই মূল পয়েন্টটিতে একটি ফুট ওভার ব্রীজ স্হাপন করলে মানুষ যেমন উপকৃত হবে ঠিক তেমনি সড়ক দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে হাজার ও মানুষের প্রান। এমনটাই বিশ্বাস সাধারণ নাগরিকের এবং তা কার্যকরে মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত