টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা শুরু

হাটহাজারীর চারিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমাস্থল পরিদর্শন করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার

হাটহাজারী প্রতিনিধি
সিটিজি টাইমস


চট্টগ্রাম, ২৯ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: হাটহাজারী উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়নে চারিয়া গ্রামে প্রথম বারের মত আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা আজ বৃহস্পতিবার ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী ইজতেমা চলবে। ইজতেমাতে প্রায় ১০লক্ষ মুসল্লীর সমাবেশ হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমাণ করছে উদ্যেক্তা কর্তৃপক্ষ।

আগামী শনিবার ৩১ ডিসেম্বর আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা সমাপ্ত হবে। ইজতেমাতে যোগদানের জন্য আজ বুধবার থেকে মুসল্লীরা গাড়ী ও পায়ে হেঁটে আসতে শুরু করেছে। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমা আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মসজিদ, অজু করার ব্যবস্থা, পানীয় জলের জন্য নলকুপ স্থপান, পানি সংরক্ষণের জন্য হাউজ, ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের গোসলের জন্য হালদা প্যারালাল খাল ও আশাপাশে পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ, বিদেশী মেহমানদের থাকার আবাসস্থল, বয়ান করার জন্য মঞ্চ তৈরি মুসল্লীদের বসার জন্য প্যান্ডেল তৈরিসহ নানা আনুসাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছে। সুষ্ঠ,শান্তিপূর্ণ ও সফল ভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ইজতেমা স্থলে কাজ করার জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাজ কর্ম তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের ৬ কর্মকর্তার সমন্ময়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

 মুসল্লিদের বিনামূল্যে ওষুধসহ নিশ্চিত করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা
 সিসি ক্যামেরায় সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

 প্রশাসনের পক্ষে থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয়
 পুলিশের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

এছাড়া উপজেলার আওতাধীন ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সহায়ক কমিটির সদস্যদের সার্বিক তদারকির ও সহায়তার জন্য প্রশাসেনর পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হয়েছে। ইজতেমাস্থলে চলছে এখন উৎসবের আমেজ। প্রতিদিন ইজতেমা স্থলের কাজ করার লোকজন ছাড়াও অসংখ্য উৎস্যূক জনতা ইজতেমা প্রাঙ্গনে ছুটে যাচ্ছে দৃশ্য দেখতে। ইজতেমা স্থলের আশেপাশে মেলার আদলে বিভিন্ন হোটেল, রেষ্টুরেন্ট ও দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। ইজতেমায় আসা চিল্লার মুসল্লীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রান্না বান্নার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তাছাড়া ইজতেমা প্রাঙ্গনে দক্ষিণ পার্শ্বে মুন্সির মসজিদ এলাকায় থেকে চারিয়া মুছারদোকান পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। যারা একক ও দ্বৈত এবং সঙ্গী নিয়ে বয়ান শুনতে আসবে তাদের খাওয়া দাওয়ায় যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য এখানে প্রায় এক হাজার অস্থীয় হোটেল চা দোকান,কাচা বাজারসহ বিভিন্ন আনুসাঙ্গিক পন্যের দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন ডেকোরেশন ব্যবসায়ীরা এসব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে সহযোগীতা করেছেন। অনেক ব্যবসায়ী ইজতেমা প্রাঙ্গনের আশেপাশে ফসলী জমি ভাড়া নিয়ে এসব দোকানপাট করেছে।

প্রশাসন সূত্রে জানায়, ইজতেমায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করা হয়েছে। চারটি পর্যাবেক্ষণ টাওায়ার স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা প্রাঙ্গনে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার জন্য ২০টি সিসি ক্যামরা বসানো হয়েছে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট মহাসড়কে যানযট নিরসনের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়ন রাখা হয়েছে। ১২শ পুলিশ ইজতেমার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিয়জিত রয়েছে। চারিয়া বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসি ক্যামরার মাধ্যমে সমস্ত বিষয় তদারকিতে রাখা হয়েছে। তাছাড়া আরো তিনটি স্থানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলার বিষয় পর্যাবেক্ষণ করা হবে। অপর দিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এনে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা আজ বুধবার আইনশংঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ সদস্যদের মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ক্যাম্পে নির্দেশনা প্রদান করেছে। তাছাড়া তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিকালে ৩টা ৫০ মিনিটে ইজতেমাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পুলিশ সুপারের সাথে সরকারী সেবা প্রদানকারী অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইজতেমার সমস্ত কিছু তদারকি করে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকারি বেসরকারি ভাবে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়ক যানযট মুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ সকাল ৮ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট নিয়ে সভা করেছে। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্ময়ে আয়োজিত সভায় তারা প্রশাসনের সিন্ধান্ত মেনে নিয়েছে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লী বহনকারী গাড়ী গুলো স্থানীয় ফসলী জমিতে পাকিং ও মুসল্লীদের ইজতেমা স্থলে যাতায়তের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ৭ টি এবং পশ্চিম পাশে ৬ টি গাড়ী মাঠে নামানোর জন্য সংযোগ প্রতিষ্ঠাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অস্থীয় তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। বিকল্প হিসাবে প্রশাসন ১৬ টি সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করেছে। তাছাড়া ইজতেমা আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের বিকল্প হিসাবে জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।

প্রশাসন ছাড়াও হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সাংসদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মহামুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহাবুবুল আলম চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যানদ্বয় যথাক্রমে মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির ও মনোয়ারা বেগম এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাগণ ইজতেমা স্থল পরিদর্শন করে সুষ্ঠ ব্যবস্থপনার কার্যক্রম তদারকি করেছে।

এদিকে ইজতেমাস্থলে মুসল্লী ও চিল্লার লোকজন যাতে সুন্দর ও সুশৃংঙ্খল ভাবে বসতে পারে সেজন্য প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াটার প্রæপ পদ্দা টাঙ্গিয়ে সিলিং তৈরি করা হয়েছে। কোন উপজেলা কোনস্থানে বসবে সেজন্য একটি করে বড় আকারের মানচিত্র ৭ স্থানে বসানো হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। যাতে ইজতেমায় আগতদের কোন অসুবিধা না হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড মুসল্লীদের গোসল ও অজু করার জন্য হালদা প্যারালাল খালটি পানি ভর্তি করে দিয়েছে। মহাসড়কে যানযট নিরসনের জন্য ১শ/১শ২০গজ দূরে দূরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পালাক্রমে ষ্ট্যান্ডবাই দায়িত্ব পালনের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অর্পন করে জরুরী ব্যবস্থার জন্য এ্যাম্বলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সর্বোপরী চট্টগ্রাম জেলার প্রথম ইজতেমা সফল করতে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইজতিমার মূল সমন্বয়ক মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, এটা একটা দ্বীনি নবীওয়ালা কাজ। একমাত্র মহান আল্লাহকে রাজী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইজতেস্থলে এসে অবস্থান নিয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মতামত