টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে বিজয়ী হলেন যারা

চট্টগ্রাম, ২৮ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ২০ সদস্য বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) ১৫টি কেন্দ্রে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন ফল ঘোষণা করেন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাঁশখালীর উপজেলার সাধারণ সদস্য পদে ভোটগ্রহণ হয়নি।

বাকি ১৪টি সদস্য পদে এবং পাঁচটি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে বুধবার ভোটগ্রহণ হয়।এর মধ্যে চারটি সাধারণ সদস্য ও দুটি মহিলা সদস্য পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় পাঁচজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

বিজয়ীদের মধ্যে ২ নম্বর (সীতাকুণ্ড-মিরসরাই আংশিক) ওয়ার্ডে আ ম ম দিলসাদ (৯৫ ভোট), ৩ নম্বর (সন্দ্বীপ) ওয়ার্ডে অফতাব খান (১১৯ ভোট), ৪ নম্বর (নগর ও হাটহাজারী আংশিক) ওয়ার্ডে জাফর আহমদ (৬০), ৫ নম্বর (হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি আংশিক) ওয়ার্ডে শওকত আলম (৫১) এবং ৬ নম্বর (ফটিকছড়ি) ওয়ার্ডে ড. মাহমুদ হাসান।

৯ নম্বর (বোয়ালখালী-পটিয়া আংশিক) ওয়ার্ডে মো. ইউনুস (১১৪ ভোট), ১০ নম্বর (পটিয়া) ওয়ার্ডে দেবব্রত দাশ (৮৫ ভোট), ১১ নম্বর (চন্দনাইশ-পটিয়া আংশিক) ওয়ার্ডে আবু আহমদ চৌধুরী (১৭৮ ভোট), ১৪ নম্বর (সাতকানিয়া) ওয়ার্ডে জসিম উদ্দিন (৭৪) এবং ১৫ নম্বর (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) ওয়ার্ডে আনোয়ার কামাল (১৬১ভোট) বিজয়ী হয়েছেন।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদের নির্বাচিতদের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডে উম্মে হাবিবা (১৯২ ভোট), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রেহানা বেগম (৩০৭ ভোট) এবং শাহিদা আক্তার (২৯৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে রেহানা আক্তার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দিলুয়ারা ইউসুফ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন। সাধারণ সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন ১ নম্বর (মিরসরাই-বারৈয়ারহাট) ওয়ার্ডের শেখ আতাউর রহমান, ৭ নম্বর (রাউজান) ওয়ার্ডের কাজী আব্দুল ওহাব, ৮ নম্বর (রাঙ্গুনিয়া) ওয়ার্ডের কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং ১২ নম্বর (আনোয়ারা-বাঁশখালী আংশিক) ওয়ার্ডের এস এম আলমগীর।

সকাল থেকে চট্টগ্রাম জেলার সবগুলো কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার সব পৌরসভা ও ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন এলাকার ৪১টি ওয়ার্ডকে নিয়ে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং পাঁচটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে একটি করে মোট ২০টি সদস্য পদ রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

One comment

  1. শামসুল হক চৌঃ এমপির প্রিয় দেবুদার জয়ের পিচনে লুকিয়ে থাকা সকল তথ্য প্রকাশ
    দৈনিক কালের কন্ঠ ২৯/১২/২০১৬
    চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে পটিয়ার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের (ভোটার) ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণের আগে গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়া উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে ডেকে পর্যটন করপোরেশনের অভিজাত মোটেল সৈকতে এনে রাখা হয়।

    মোটেলে রাতে খাবারের পাশাপাশি তাঁদের সৌজন্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
    সামশুল হক চৌধুরী মোটেলের পাশের বেসরকারি একটি অভিজাত হোটেলে ছিলেন। নগরের স্টেশন রোডে অবস্থিত ওই দুই হোটেলের মাঝে রয়েছে সড়ক। সড়কের বাঁ পাশে মোটেল সৈকত ও ডান পাশে এশিয়ান এসআর হোটেল। মধ্যরাত পর্যন্ত পটিয়ার এসব জনপ্রতিনিধির সঙ্গে পর্যায়ক্রমে একান্তে বৈঠক করেন সংসদ সদস্য সামশুল হক।

    জনপ্রতিনিধিরা গতকাল সকালে নাশতা সেরে ৮টার দিকে মোটেল থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে পটিয়া ভোটকেন্দ্রে গেছেন ভোট দেওয়ার জন্য।

    মোটেলে রাত যাপন করা ও পাশের হোটেলে সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করা বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা জানান, এশিয়ান এসআর হোটেলের ৭০১ নম্বর রুমে ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। মোটেল সৈকতে ওঠা জনপ্রতিনিধিরা রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সংসদ সদস্যের সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে তাঁদের সাক্ষাৎ পর্ব। এ সময় সংসদ সদস্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রত্যেক সদস্যকে (মেম্বার) ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। তিনি এ সময় বলেছেন, নির্বাচনে পটিয়ায় তাঁর প্রার্থী সাধারণ সদস্য পদে দেবব্রত দাশ বিজয়ী হলে সবাইকে এক লাখ টাকার একটি করে প্রকল্প দেওয়া হবে। প্রকল্প পাওয়ার পর তাঁরা কাজ করুক বা না করুক তিনি বলে দেবেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চোখ বন্ধ করে প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ ছাড় দেবেন।

    তবে পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের কত টাকা করে দেওয়া হয়েছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী মোজাহেরুল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোটারদের জিম্মি করে শহরে নিয়ে গিয়ে একটি অভিজাত হোটেলে রেখে সবাইকে সদস্য পদপ্রার্থী দেবব্রত দাশকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন আমাদের এমপি। তিনি নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ’ তিনি আরো দাবি করেন, সংসদ সদস্য সামশুল হক ভোটারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়েছেন। হুমকি দিয়েছেন দেবব্রত দাশ যদি বিজয়ী না হয় বর্তমান চেয়ারম্যানদের পদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়া হবে।

    সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী মোজাহেরুল আলম আরো দাবি করেন, ‘আমার জানা মতে এমপি তাঁর পছন্দের প্রার্থী দেবব্রত দাশকে বিজয়ী করাতে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি টাকা খরচ করেছেন। শুধু আগের রাতে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নগদ টাকা বিতরণ এবং আসা-যাওয়া মিলিয়ে অর্ধকোটি টাকা খরচ করেছেন। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। ’

    কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা যায়, পটিয়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ১৮৫ জন ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়া থেকে সংসদ সদস্যের আহ্বানে ১১০ থেকে ১৩০ জন চট্টগ্রাম নগরে আসেন। রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে মাইক্রোবাসে করে পটিয়া থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নগরের স্টেশন রোডে মোটেল সৈকতে এসে ওঠেন তাঁরা। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় মোটেলের নিচতলার হলরুমে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। এতে দুজন নারী শিল্পী রাত ৩টা পর্যন্ত গান পরিবেশন করেন।

    এদিকে রাত ১০টার পর থেকে হোটেলের তিনতলা থেকে সাততলা পর্যন্ত প্রায় ৭০টি কক্ষে ওঠা জনপ্রতিনিধিদের কাছে খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়। রাতের খাবারের সঙ্গে একটি আপেল, একটি কমলাও দেওয়া হয়। মোটেলে পুরুষ জনপ্রতিনিধিরা দুজন করে একটি কক্ষে ছিলেন। আর নারী জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন তাঁদের স্বামীর সঙ্গে।

    অন্যদিকে এশিয়ান এসআর হোটেলের ৭০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন সংসদ সদস্য। ওই হোটেলে আরো ছিলেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) সাজেদা বেগম সিরু ও সংসদ সদস্যের গানম্যান। একদিকে মোটেলে খাওয়াদাওয়া ও গানের অনুষ্ঠান চলছিল আর অন্যদিকে কয়েকজন করে জনপ্রতিনিধি গিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করে আসছিলেন।

    গতকাল সকালে পর্যটন মোটেল সৈকতের ক্যান্টিনে জনপ্রতিনিধিরা পরোটা, ভাজি ও ডিম দিয়ে নাশতা করেন। সঙ্গে ছিল এক কাপ করে চা। নাশতা সেরে সকাল ৮টার দিকে পটিয়ার উদ্দেশে মোটেল ছাড়েন সবাই।

    জানা যায়, গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্ষন্ত একটানা ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে এমপি সামশুল হক চৌধুরী সমর্থিত দেবব্রত দাশ ৮৫ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ৭৪ এবং মোজাহেরুল আলম চৌধুরী ২১ ভোট পেয়েছেন। মোট ১৮৫ ভোটের মধ্যে ১৮১ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে একটি ভোট বাতিল হয়েছে।

    অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে আমি কারো সঙ্গে বৈঠক করেনি। কেউ আমার সঙ্গে দেখাও করেনি। আমি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। ’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হোটেলে কে ভাত খেয়েছে, গান-বাজনা করেছে তা আমার জানার দরকার নেই। কেউ খেয়ে থাকলে তা তাদের টাকায় খেয়েছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুষ্টু প্রকৃতির লোকেরা বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। ’

    সামশুল হক চৌধুরী বলেন, “পটিয়ায় সন্ত্রাসীরা কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ভোটারপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চেয়েছিল জনপ্রতিনিধিদের। সন্ত্রাসীরা জনপ্রতিনিধিদের হুমকি দিয়েছিল, ‘টাকা নিবি না হলে গুলি করে মেরে ফেলব’। এ রকম নানা হুমকি-ধমকির কারণে জনপ্রতিনিধিরা পটিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শহরে এসে আশ্রয়

মতামত