টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সালতামামি ২০১৬: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে আরেক ধাপ

চট্টগ্রাম, ২৭ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: : গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বিদায়ী বছরেও বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই চলতি ২০১৬ সালেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণের মধ্যেও বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

অর্থনীতির সকল সূচকেই উন্নতি হয়েছে। এই অগ্রগতি দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির উদীয়মান শক্তি হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। এমনকি নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অভাবনীয় উন্নতি: দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন ৭ শতাংশের উপরে। ২০১৬ সালেই এই মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতো, দেশের জিডিপি ৭ শতাংশ পার হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিষয়টি সম্ভব হয়েছে। এমনকি চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও ৭ শতাংশের বেশি ঠিক করা হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জিডিপি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ ৭ দশমিক ১১ শতাংশ, যা গত ছয় বছরের জিডিপি বিবেচনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল এক নিদর্শন। আগের দুই অর্থবছরে অর্জিত জিডিপি ছিল যথাক্রমে ৬.৬ এবং ৬.৫৫ শতাংশ।

বেড়েছে মূলধনী যন্ত্রাংশের আমদানি: মার্কিন ডলার মূল্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিল্পখাতে প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর প্রধান কারণ মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি। চলতি বছরে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু এবং ফ্লাইওভারের নির্মাণসামগ্রী আমদানি করা হয়। এছাড়া শিল্পখাত বিশেষ করে পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা প্রসারের কারণেও বেড়েছে মূলধনী যন্ত্রাংশের আমদানি। যার ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

দারিদ্র্য বিমোচনের পথে দেশ: অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচনের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বর্তমানে তিন কোটি ৭৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। যা দেশের মোট জনসংখ্যার সাড়ে ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে এক কোটি ৯৪ লাখ মানুষ অতি দরিদ্র। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে জানানো হয়, ২০০৯ সালের চেয়ে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। সেই সময়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল পাঁচ কোটি এবং অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৮০ লাখ।

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে: মূল্যস্ফীতির হারের তেমন উত্থান-পতন চলতি বছর ঘটেনি। মূল্যস্ফীতি গত বছরের মতোই ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। তবে তা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খুব বেশি ছিল না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার বড় কারণ ছিল খাদ্য মূল্যস্ফীতি কম থাকা। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ছিল। খাদ্যশস্যের ভালো ফলন, আবহাওয়া ভালো থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া ইত্যাদি কারণে খাদ্য সরবরাহ অবস্থা ভালো ছিল, যার ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এ সময়ে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা: অক্টোবরে দুদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরকালে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, সমুদ্রসীমা রক্ষায় ঢাকা-বেইজিং একযোগে কাজ করার প্রত্যয় করেছেন শি জিনপিং। তার এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এ সময় ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া বিদায়ী বছরে দারিদ্র্য বিমোচন ও এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য দেখতে ঢাকায় আসেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। তিনি দরিদ্রতা দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার প্রশংসা করেন।

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন চলছে। এর মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়। বেড়েছে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ, কমেছে অস্থিরতাও। এছাড়া বছর জুড়েই আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাড়ার সংবাদও।

মতামত