টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হাটহাজারীতে প্রথমবারের মত ইজতেমা, কোটি টাকার ব্যবসা!

চট্টগ্রাম, ২৬ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস::  চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকায় আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের স্বেচ্ছাশ্রমে চট্টগ্রামে আঞ্চলিক ইজতেমার কাজ হলেও চারিয়া মাদ্রাসার পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ৩৪২টি দোকান। ওই এলাকার ব্যারিস্টার আনিস খালে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে ২১১টি; এর প্রতিটির ভাড়া দিতে হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। হাটহাজারী-ফটিকছড়ি সড়কের দুই পাশে দেওয়া হয়েছে ১৭টি দোকান; এর প্রতিটির ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। আর আঞ্চলিক ইজতেমার বিপরীত পাশে দেওয়া হয়েছে ১১৪টি অস্থায়ী দোকান; প্রতিটির ভাড়া ৮ হাজার টাকা।

মাত্র ৩ দিনের জন্য শুধু দোকান ভাড়া বাবদ ২৬ লাখ ৩ হাজার টাকার ব্যবসা হচ্ছে। ১৫*১৮ বর্গফুটের প্রতিটি দোকানের জন্য গড়ে ভাড়া দিতে হচ্ছে ৭ হাজার ৬১২ টাকা। শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে মাত্র ৩ দিনে এমন আয়ে স্থানীয় প্রতিটি ঘরে এখন উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আঞ্চলিক ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা অস্থায়ী দোকানগুলোর সিংহভাগই খাবারের দোকানের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। ইজতেমা শুরুর কয়েকদিন আগেই বরাদ্দ হয়েছে সব অস্থায়ী দোকান। এখন চলছে স্টল গোছানোর কাজ।

হাটহাজারী মাদ্রাসার অফিস সহকারী মৌলভী তাজুল ইসলাম জানান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ হচ্ছে আঞ্চলিক ইজতেমার। প্রত্যেক মুসল্লী নিজের সাধ্যমতো কাজ করছেন।

দোকান বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে হাটহাজারী মাদ্রাসা কোনো দোকান বরাদ্দ দিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চারিয়াতে যাদের জায়গা আছে, তারাই দোকান বরাদ্দ দিচ্ছে। আমরা শুধু ইজতেমার কাজ করছি।

ইজতেমার অস্থায়ী দোকান-মালিক সমিতির সমন্বয়ক ফাহিমুল ইসলাম জানান, আঞ্চলিক ইজতেমায় কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। ৫ লাখ মুসল্লী নিজের খাবারের ব্যবস্থা করলেও বাকি ৫ লাখ লোক দোকান থেকে খাবার কিনবেন। তাই খাবারের দোকান বেশি হয়েছে। এছাড়া কাপড়, মিষ্টি, গ্রামীন সামগ্রীর দোকানও আছে। আঞ্চলিক ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ৩ দিনেই এসব দোকানে কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুর শুক্কুর জানান, আঞ্চলিক ইজতেমা উপলক্ষে আয় বেড়েছে। সাধারণত হাটহাজারী বাস স্টেশন থেকে চারিয়া পর্যন্ত যাত্রী পাওয়া মুশকিল হলেও এখন এখানেই সবচেয়ে বেশি যাত্রী। আমাদের দম ফেলার সময় নেই। রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক সবাই এখন ব্যস্ত। প্রতিদিনই মানুষ বাড়ছে। মনে হচ্ছে, আগামীকাল থেকে এ রুটের অনেক যাত্রী হেটে ইজতেমায় যেতে হবে।

ইজতেমার মূল সমন্বয়ক মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন জানান, হাটহাজারীবাসীর কাছে আল্লাহর নিয়ামত এই আঞ্চলিক ইজতেমা। সাধারণত চারিয়া খুব জমজমাট এলাকা নয়। আল্লাহ অশেষ রহমতে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় এতো বড় উদ্যোগ নিতে পেরেছি।

প্রসঙ্গত, মুসল্লীদের গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে আনিস খালে। ইজতেমার মুসল্লীদের জন্য ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হাটহাজারী শাখা।

মতামত