টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ স্যাটেলাইট ফোন ও হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেট প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে

চট্টগ্রাম, ২৬ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস::  বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইন অনুযায়ী স্যাটেলাইট ফোন, হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেট সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে আমদানি-রফতানি, কেনাবেচা, সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। কিন্তু চট্টগ্রামে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। যে কেউ ইচ্ছা করলেই মার্কেট থেকে এগুলো কিনতে পারছেন। বেচাকেনায় কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় এর যথেচ্ছ ব্যবহার বেড়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

গতকাল রোববার র্যাব-৭ নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্যাটেলাইট ফোন, হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেটসহ বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অবৈধ কমিউনিকেশন ও র্যাডার যন্ত্রপাতিসহ চার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। র্যাবের সিনিয়র এএসপি মো: সোহেল মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিউনিকেশন ডিভাইস সাধারণ মানুষের হাতে গেলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এএসপি মো: সোহেল মাহমুদ জানান, নগরীর পাহাড়তলী থানার সিডিএ মার্কেট এলাকার আব্দুল বারেক রোডে গোলাম মোস্তফা মার্কেটে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কমিউনিকেশন ও নেভিগেশনাল যন্ত্রপাতি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছে। এ খবরে বিটিআরসি ও জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় মেজর এস এম সুদীপ্ত শাহীনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ওই মার্কেটের হজরত শাহজালাল এন্ট্রারপ্রাইজ, সাকিব মেরিন ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, এস কে মেরিন, জুয়েল নূর ভবন এবং মা মেরিন ইলেকট্রনিকসে অভিযান চালায়। এ সময় ৩৪টি স্যাটেলাইট ফোন, ১৩২টি রেডিও সেট, দুইটি ফার্নো রেডিও এরিয়াল, দুইটি জেআরসি র্যাডার এন্টেনা, তিনটি ট্রান্সমিশন ইউনিট, চারটি ব্রিজ অ্যালার্ম, পাঁচটি রিসিভার, একটি সেইলর সেট কমিউনিকেশন টার্মিনাল, আটটি এন্টেনা (সেইলর/ফার্নো/জেআরসি/কোডেন), চারটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট, দুইটি জেআরসি প্রিন্টার, দুইটি কিবোর্ড, ৯টি হ্যান্ডসেট, ২২টি র্যাডার ডিসপ্লে, সাতটি ডোপলার লগ, ৭৬টি জিপিএস নেভিগেটর, ১১৭টি নেভটেক্স রিসিভার চারটি পাইরোটেকনিক আইটেমসহ বিপুল পরিমাণ কমিউনিকেশন ও নেভিগেশনাল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। এগুলোর মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ সময় হজরত শাহজালাল এন্টারপ্রাইজের মো: শফিকুল ইসলাম (৪৫), এস কে মেরিনের মো: শামছুল আলম (৫০), মো: লিটন (৪৫), জুয়েল নূর ভবনের মো: জুয়েলকে (২৮) গ্রেফতার করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মার্কেটগুলো থেকে খুব হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেট যথেচ্ছ ক্রয়ের সুযোগ নিচ্ছে এক ধরনের অপরাধী ও প্রতারক চক্র। তারা এগুলো কিনে দিব্যি বনে যাচ্ছে পুলিশ, আনসার বা র্যাব সদস্য। এ ছাড়া এসব হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেট ব্যবহার করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর দেশের বাইরের উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে দিচ্ছে একটি অপরাধীচক্র।

চট্টগ্রামে র্যাব ও পুলিশের বেশধারী ছিনতাইকারীচক্রের সদস্যরা হাতে ওয়াকিটকি, কোমরে পিস্তল ও হাতকড়া এবং সাধারণ পোশাক পরে র্যাব-পুলিশ সদস্যদেরও দাবড়ে বেড়াচ্ছে।

মতামত