টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখার নির্দেশ সরকারের

চট্টগ্রাম, ২৬ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: জঙ্গিজেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি জেলা, উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন গ্রোথ সেন্টারের কাছাকাছি জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করতেও বলা হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতা নির্মূলসহ অপরাধ প্রবণতা কমাতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর—চারমাসে সারাদেশেই অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় সভায় অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়। আর গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টেুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর মাঠ প্রশাসনকে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই নির্দেশনায় জানানো হয়, জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণায় পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি মাঠ প্রশাসনের আট বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সহযোগিতায় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করার কথা বলা হয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অন্যান্য কমিটির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কোর কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই নির্দেশনার পর গত ২৭ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় সভায় জানানো হয়, চলতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসেই দেশে খুন, নারী নির্যাতন, দস্যুতা, অগ্নি সংযোগ ও অপহরণের মতো ঘটনা বেড়েছে। হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসেই অপরাধ বেড়ে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০২টি।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের জনগণের অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেক জেলা, বিভাগ, উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন গ্রোথ সেন্টারের কাছাকাছি জায়গায় জঙ্গিবিরোধী সভার আয়োজন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তা অবহিত করতে হবে।

এছাড়া প্রত্যেক জেলা প্রশাসক তাদের দফতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী সভার আয়োজন করবেন। বিভাগীয় কমিশনাররা তা পরীবিক্ষণ করবেন।

জঙ্গিবাদবিরোধী মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার জি. এম. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের পর জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখতে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ হাজার স্থানে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। যা পর্যায়ক্রমে করা হবে।’

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘নিয়মিত এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি সব জেলা প্রশাসককে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখতে ভিডিও কনফারেন্স অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তাও মনিটরিং করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিহামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে জঙ্গিদের। এ ঘটনায় কমান্ডো অভিযানে তাদের পাঁচজনই নিহত হয়। এরপর ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। তবে সেখানে ব্যর্থ হয় জঙ্গিদের তৎপরতা।

গত ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। এতে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। গত ২৭ আগস্ট অভিযান চালানো হয় নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায়। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির মাস্টার মাইন্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী এবং তামিমের সঙ্গে মারা যায় তার আরও দুই সহযোগী। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট মিরপুরের রূপনগরে অভিযান চালায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয় জাহিদুল ইসলাম নামে অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর। এর এক সপ্তাহ পর ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সেখানে নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও আশ্রয়দাতা তানভীর কাদেরী নিহত হয়। সেখান থেকে আটক করা হয় তিন নারী জঙ্গি ও তানভীরের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে। এরপর গত ৮ অক্টোবর গাজীপুরে জঙ্গি আস্তনায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় ৯ জঙ্গি মারা যায়। পৃথক ঘটনায় টাঙ্গাইলে অভিযানে মারা যায় আরও ২ জঙ্গি।

সর্বশেষ শুক্রবার ভোর রাতের দিকে আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত হয় এক জঙ্গি নারী। এসময় এক শিশুও নিহত হয়। এ ঘটনায় আর এক শিশু আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত জুলাই থেকে সর্বশেষ শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৩৪ জঙ্গি মারা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে।- বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত