টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গফুর হালী: শেষ ইচ্ছাতে মাইজভান্ডারের ধুলো মেখে নিলেন নিজের নিথর দেহে

ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারে গফুর হালীর প্রথম জানাজা

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ২২ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস:: ‘আমি আমারে বেইচা দিছি মাইজভাণ্ডারে যাইরে, আমার কিছু নাই, আমার কেহ নাইরে, আমার কিছুই নাই…।’ ‘দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে, হয়তাছে নূরের খেলা, নূরে মওলা বসায়াছে নূরের মেলা।’

‘চলরে মন ত্বরাই যাই, বিলম্বের আর সময় নাই, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী স্কুল খুইলাছে।’ এমন অসংখ্য গানের সষ্ট্রা আব্দুল গফুর হালী। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারী ও মরমি গানের সাধক ও সুরস্রষ্টা ছিলেন আবদুল গফুর হালী। যৌবনে পা ফেলার সময় থেকে জীবনের অন্তিমকাল পর্যন্ত নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে। পিতার প্রদত্ত আব্দুল গফুর থেকে এখানেই তার পীর সৈয়দ শফিউল বশর তাঁকে ‘হালী’ (ভাব তন্ময়তায় মশগুল) নাম সংযোজন করে গফুর হালী নামকরণ করেন।

তার শেষ ইচ্ছে ছিল, তার নিথর দেহে যেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ধূলো পায়, আর যেন তার নামাজে জানাজায় পীর মজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ইমামতি করেন। অবশেষে তার শেষ ইচ্ছা অনুসারে আজ ( বৃহস্পতিবার ) দুপুরে তার লাশ মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহী ময়দানে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাঁর মরদেহ কাটিয়াতে না রেখে, রাখা হয় নিচে। যেখানে মাইজভান্ডারের ধুলো মাখিয়ে নিলেন নিজের নিথর দেহে।
গাউছিয়া রহমান মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর ইমামতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহন পূর্ব বক্তব্য দেন পিএইচপি গ্র“পের চেয়ারম্যান সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারি, সৈয়দ শাহরিয়ার হক মাইজভান্ডারি, উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ছদরুল উল্লাহ মাইজভান্ডারি, নানুপুর লায়লা কবির ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ ন ম সরওয়ার আলম, মাওলানা মো. শফিউল আলম, নুরুল ইসলাম ফোরকানী এবং মরহুমের নাতি মো. মফিজুর রহমান।

এর আগে দুপুর সাড়ে বারটায় আবদুল গফুর হালীকে বহনকারী লাশগাড়ি সেখানে এসে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারি ও মরমি গানের এক বিশাল মনের অধিকারী গফুর হালীকে হারিয়ে এতদাঞ্চলের লোকজন ব্যাথাতুর। এই গুণী শিল্পী কৈশোর থেকে আজীবন কাটিয়েছেন এখানে। আজ গফুর হালীর সৃষ্টি লাখো স্রোতা তাঁর অবদান গভীরভাবে স্বীকার করছে।’

সৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, ‘গফুর হালী একজন কিংবদন্তি। তিনি কর্মে শিখিয়ে গেছেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফ এক আধ্যাত্ম শরাফতের প্রাণকেন্দ্র। এখানে কোন ধর্ম ও জাতের ভেদাভেদ নেই।’

গত বুধবার ভোরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গফুর হালী। কাল শুক্রবার বাদ জোহর পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ নিজ গ্রামে শেষ জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরখানায় শায়িত করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত