টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে শিপের ফার্নিচারের কদর কমছে

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২১ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস :: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুপাশে বড় বড় দোকান। সেগুলোর একতলা-দোতলায় থরে থরে সাজানো রকমারি ফার্নিচার। নানা রঙ ও আকৃতির সোফা, ডাইনিং টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, আলমিরা, ওয়াড্রব, খাট রয়েছে। দূর থেকেই নজর কাড়ে। এগুলো একসময় ব্যবহৃত হতো শিপে। এখন সেগুলো টুকটাক মেরামত করে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরীর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী সিটিগেট এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ফার্নিচারের দোকান।অলংকার মোড়ের পর থেকে সিটি গেট এলাকার আশেপাশে এ ধরনের প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। শিপের ফার্নিচারের পাশাপাশি দুএকটি দোকানে নিজেদের তৈরি ফার্নিচারও বিক্রি হচ্ছে।

৯০-র দশকের পর থেকে এই এলাকায় শিপের ফার্নিচারের দোকান গড়ে উঠে। কাছাকাছি সীতাকুন্ড শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কারণেই এসব বিকিকিনির দোকানের অস্তিত্ব বলে জানা যায়। শিপের এসব পণ্য এখান থেকেই চলে যেতো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে।

ফলে শিপের ফার্নিচারের এক বিশাল বাজার গড়ে উঠে দেশময়। যার সূতিকাগার ছিল এই দোকানগুলো। তারাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সরবরাহ করতো। কিন্তু গত ৪-৫ বছর ধরে সেই ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এর কারণ একটি নয়।

শিপের ফার্নিচার ব্যবসায়ী রফিক সওদাগরের মতে, ক্রেতাদের আয়ের ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। মানুষের ইনকাম নাই, তাই ব্যবসা বাণিজ্যও নাই। ফলে চট্টগ্রামের বাইরেও শিপের ফার্নিচারের চাহিদা কমে গিয়েছে। কারণ বিলাসিতার জিনিস মানুষ তখনি কেনে যখন তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ হাতে থাকে। এসব ফার্নিচার তো বিলাসী পণ্য।

বাগদাদ ফার্নিচারের অন্যতম স্বত্ত¡াধিকারী আজিজুল ইসলাম বলেন, এখন নানা র্ব্যান্ডের নানা নামের ফার্নিচার এসেছে বাজারে। ফলে শিপের ফার্নিচারের চাহিদা কমে এসেছে গত কয়েক বছর ধরে। আগের মতো চট্টগ্রামের বাইরে এসব ফার্নিচারের কাটতি তেমন নাই এখন।

তবে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে শিপের পণ্যের প্রতি আলাদা একটা টান আছে। অনেকেই তাই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন এসব দোকানে। শিপের ফার্নিচার অনেক টেকসই এবং দামেও অনেক সাশ্রয়ী বলে দাবি করেন নগরীর হালিশহর কে বøক থেকে আসা ক্রেতা রজব আলী।

তাঁর মতে, এ পর্যন্ত আমরা শিপের যে সব আসবাবপত্র কিনেছি সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছি। কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং ব্যবহারে মনে হয়েছে, বিভিন্ন র্ব্যান্ডের নতুন ফার্নিচারগুলো সেই তুলনায় অনেক ভক্সগুর।

খোজ নিয়ে জানা যায়, সীতাকুন্ড শিপ ইয়ার্ডে পুরোনো শিপ ভাঙার পরই টেন্ডারের মাধ্যমে ফার্নিচারগুলো কেনেন এসব দোকানের ব্যবসায়ীরা। ছোট-বড় আকার ভেদে একটি শিপ থেকে ২৫০-৩০০পিস পর্যন্ত ফার্নিচার পাওয়া যায়। জাহাজের বিভিন্ন কেবিনে থাকা ফার্নিচারগুলোই তাঁরা সংগ্রহ করেন।

শিপ ইয়ার্ড থেকে ট্রাকে করে এসব ফার্নিচার আনা হয় যার যার দোকানে। সেখানে এনে আবার মেরামত করতে হয় এসব পণ্য। কারণ ট্রাকে করে আনার পথে কিছু না কিছু ক্ষতি হয় ফার্নিচারের। তাই দোকানে তোলার পর সেইসব খুঁত সারানো হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। এজন্য প্রতিটি ফার্নিচারের দোকানের পেছনে কারখানা। সেখানে কাজ করেন ৫-৭ জন শ্রমিক। এরপর আসবাবপণ্যগুলো সাজিয়ে রাখা হয় বিক্রির জন্য।

সিটি গেট এবং এর আশেপাশের এলাকার বেশিরভাগ দোকান গড়ে উঠে ৯০-র দশকে। জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এরমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি নিজে এখানে দোকান করে শিপের ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন ১৯৯১ সালের দিকে।

তিনি বলেন, একেকটি ফার্নিচারের দোকানে ৫০০-৬০০ পিস বিভিন্ন ফার্নিচার রযেছে। এসব শো-রুম থেকে সাধারণত বড় বড় দোকানিরাই একসঙ্গে অনেকগুলো মালামাল কিনে নিয়ে যান। এছাড়া সাধারণ ক্রেতারাও আসেন এখানে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শো-রুমগুলোতে একটি শো-কেসের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফাইল কেবিনেটের দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আলমিরা ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা, সোফা ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা, খাট ২ থেকে ৬ হাজার টাকা, ওয়াড্রবের দাম ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। যা বাজাওে অন্য যে কোন ফার্নিচারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কম।

বিশেষ করে অটবি থেকে নামকরা যে ফার্নিচারের শো-রুমে প্রকারভেদে শিপের ফার্নিচারের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম বেশি। এমনকি সেগুন, গামারিসহ দেশীয় প্রজাতীর বিভিন্ন কাঠে তৈরী ফার্নিচারগুলো শিপের ফার্নিচারের চেয়ে চারগুণ দাম বেশি।

মতামত