টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাদা সোনায় স্থবিরতা

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ১৯ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস ::দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত ‘সাদা সোনা’ তথা চিংড়ি শিল্পে বিরাজ করছে স্থবিরতা। চিংড়ি চাষি, ঘের মালিক, হ্যাচারী মালিক, রপ্তানীকারক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা হাজার হাজার কোটি বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সরকারী এ খাত। তথ্য মতে, সারাদেশের ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর চিংড়ি চাষের জমি রয়েছে। সেখানে অধিকাংশই জমি প্রতরক শ্রেনীর হাতে জিম্মী হয়ে পড়ায় সরকার হারাচ্ছে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের জন্য স্থাপিত হ্যাচারী গুলোতেও দেখা দিয়েছে নৈরাজ্য। নীতিমালার অভাবে এসব হ্যাচারী লোকসানের ভারাক্রান্ত। অসম প্রতিযোগিতার কারণে হ্যাচারী শিল্পে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির মুখে। অকিাংশ হ্যাচারী অনেকটা অচল অবস্থায় রয়েছে।

চিংড়ি উৎপাদনে বিপর্যয়ের এই প্রভাব পড়েছে রপ্তানী খাতেও। হিমায়িত মৎস্য রপ্তানী কারখানা গুলোর অধিকাংশই এখন লোকসান গুনছে। এতে করে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ‘সাদা সোনা’ রপ্তানী। স্থবির অবস্থা বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে।

একটি সুত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিংড়ি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়। এপর্যন্ত এই কমিটির ৪টি সভা হলেও নির্দেশনামূলক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে কক্সবাজার চিংড়ি মহাল কমিটি গঠিত হয়েছে গত দু’বছর আগে। এখানেও দু’একটি সভা ছাড়া নাকি আর কিছুই হয়নি। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার অহেতুক মামলার কারণেও নাকি চিংড়ি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে চিংড়ি।

কক্সবাজার চিংড়ি খামার গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন জেলা চিংড়ি মহাল কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কক্সবাজারে সরকারী বেসরকারী মিলে ৬০ হাজার হেক্টর চিংড়ি জমি রয়েছে। মহাল কমিটির অদক্ষতা ও অনিয়মের কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে খামারিরা চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। এই সুযোগে হাজার হাজার একর চিংড়ি জমি জবর দখলকারীদের হাতে চলে যায়। নিয়ম বর্হিভূতভাবে জবর দখলে থাকা এসব চিংড়ি জমি উদ্ধারেরও কোন উদ্যাগ নেয়া হচ্ছেনা।

জানা গেছে, বিগত কমিটি ও বর্তমান কমিটির অনুমোদিত শত শত ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। একইভাবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অসংখ্য ফাইল তদবিরের অভাবে ছাড়া হচ্ছে না। এতে করে কিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এলআর ফান্ড বন্ধ করে দেয়ার কথা বললেও কক্সবাজার রাজস্ব কর্মকর্তারা এলআর ফান্ডের নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে কক্সবাজার চিংড়ি খামার গ্রুপের পক্ষ থেকে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো বলছে, ভারত, চীন ও থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশ তাদের উন্নত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির কারণে প্রতি হেক্টরে দুই থেকে আড়াই হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করে থাকে। বাংলাদেশে এখনো চলছে সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ। অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি হেক্টর জমিতে চিংড়ি উৎপাদন হয়ে থাকে মাত্র ১৬০-২০০ কেজি মাত্র।

অভিযোগ রয়েছে, বেক্সিমকোসহ কয়েকটি কোম্পানী তাদের ঘেরে একর প্রতি ৫-৭ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করে থাকলেও তাদের কোন মূল্যায়ন হচ্ছে না।

বেক্সিমকো হ্যাচারীর এমডি চিংড়ি বিশেষজ্ঞ কুতুব উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষের জন্য সরকারকে বোঝানোর কেউ আছে বলে মনে হয়না। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করা হলে দেশে চিংড়ি খাতে বিপ্লব সাধিত হবে।

কুতুব উদ্দিন আরো বলেন, ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পাইলট প্রজেক্ট করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করা হলে বর্তমানে সনাতন পদ্ধতির ৩লাখ হেক্টর জমির সমপরিমাণ চিংড়ি উৎপাদন হতে পারে। এত বিশাল পরিমাণ জমিতে চিংড়ি চাষের প্রয়োজন হবেনা। তখন শুধু কক্সবাজার থেকে উৎপাদিত চিংড়ি রপ্তানী করেই বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে কক্সবাজার চিংড়ি খামার গ্রুপের পক্ষ থেকে ২০ হাজার হেক্টর চিংড়ি জমি নিয়ে পাইলট প্রজেক্ট করে অর্থনৈতিক জোন ঘোণার মাধ্যমে আধা নীবিড় চাষের উদ্যোগ নেয়ার জন্যও প্রস্তাব করা হয়। তাতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ন্যূনতম ৩ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করা সম্ভব বলে দাবী খামারীদের।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত