টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবানে খালি নেই হোটেল-মোটেল কক্ষ

চট্টগ্রাম, ১৯ ডিসেম্বর, সিটিজি টাইমস : বছরের শেষ দিন উদযাপন আর ঐতিহ্যবাহী রাজমেলাকে ঘিরে পর্যটকরা এখন বান্দরবানমুখী। দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে মুখর হয়ে উঠছে বান্দরবান। ইতিমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউসের কক্ষ।

বছরের শেষ দিন আর ঐতিহ্যবাহী রাজমেলা দেখতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে প্রতিবছরই এই মৌসুমে লোকজন ছুটে আসেন। গত বছর প্রায় এক লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে বান্দরবানে।

এবার ২১ ডিসেম্বর থেকে বোমাং রাজপুণ্যাহ শুরু হওয়া ও বছরের শেষ দিনকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন হোটেল মালিকরা। বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, খাজনা আদায়ের উৎসব আর বছরের শেষ দিনকে কেন্দ্র করে শহরের ৫৫টি হোটেল মোটেলের এক তৃতীয়াংশ বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেলে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে হোটেল ব্যবস্থাপকরা জানান, হোটেল হিলভিউ, হিলটন, হোটেল প্লাজা, হিল কুইন, ভেনাস রিসোর্ট, হোটেল মোটেল এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে ছোট-বড় সব হোটেল ও মোটেল।

বান্দরবানের হোটেল প্লাজার ব্যবস্থাপক রাহাত এলাহি জানান, প্রতিদিন হোটেল কক্ষের জন্য অনেকে ফোন দিচ্ছে কিন্তু আমরা কক্ষ ভাড়া দিতে পারছি না। রাজমেলা আর বছরের শেষ দিনকে ঘিরে অনেক আগেই হোটেল বুকিং হয়ে গেছে।

বান্দরবানের হোটেল গ্রীনহিলের ব্যবস্থাপক আশীষ দাশ জানান, এই মৌসুমে পর্যটকের চাপ থাকে বেশি। অনেক আগে থেকেই আমাদের সকল কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাতে প্রতিদনই আসছেন হাজারো পর্যটক। পাহাড়ের সৌন্দর্য্য আর বোমাং রাজ মেলা দেখতে এরই মধ্যে অনেকে ঘুরতে এসেছেন বান্দরবানে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. নুরুল আলম জানান, বান্দরবানের বোমাং রাজমেলা সম্পর্কে আমার বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি। রাজাদের ইতিহাস আর ঐতিহ্য দেখার জন্য আগে থেকে চলে এসেছি বান্দরবানে।

খুলনা থেকে স্ব-পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আরেক পর্যটক আবছার বলেন, পাহাড় ঘেরা বান্দরবান দেখতে অনেক সুন্দর। পাহাড়ি ঝর্ণা আর সাঙ্গু নদীর সৌন্দর্য্য আমাকে বিমোহিত করেছে অনেক বেশি।

ফিস্ট রেস্টুরেন্ট এর স্বত্ত্বাধিকারি শাহাদাত-উর-রহমান জানান, পাহাড়ি খাবারের চাহিদা থাকে একটু বেশি। তাই পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ধাঁচের খাবারের আয়োজন করছি এবারও। অনেকে এরই মধ্যে খাবারের অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

মতামত