টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি আর সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১৭ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  দেশের মানুষ এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। আর কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করতে পারবে না।

শনিবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয় অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, এত ইতিহাস বিকৃতি পৃথিবীর কোনো দেশে আর নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ কেউ খেতাবও পেয়েছেন। তবে তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করতেন কি না, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। কারণ, তারাই এ দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, পতাকা তুলে দিয়েছেন। তারা এখন কী করে গণতন্ত্রের কথা বলেন!’

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কখনোই স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নতি চাননি দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছেন, বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছেন। ২১ বছর এদেশের মানুষকে বিভিক্ত করা হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইতিহাস বিকৃতি থেকে এই দেশ মুক্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য জানতে পারছে বলেই আজকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। আর এ কারণে গতকাল (শুক্রবার) আমি যখন বঙ্গভবনে যাচ্ছিলাম, তখন যানজটে পড়েছিলাম। সেখানে ছাত্র, যুবকসহ নানা বয়সী মানুষ ছিল। মানুষের এই অংশগ্রহণ নিয়ে আমরা আশার আলো দেখতে পায়- দেশের ইতিহাস আগামীতে কেউ আর বিকৃত করতে পারবে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের উন্নয়ন হবেই।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কারচুপির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আয়নায় চেহারা দেখুন, চেহারা শুধু সাজুগুজু করার জন্যই নয়। আমরা গণতন্ত্র এনেছি, গণতন্ত্র অব্যাহত রাখব। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে।’

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কম্প্রমাইজ করতে পারলে আওয়ামী লীগ সেবারও ক্ষমতায় আসতে পারত বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে ক্ষমতা আসা আমার জন্য কঠিন কিছু ছিল না, যদি একটু কম্প্রমাইজ করতাম। নির্বাচনের আগে মার্কিন গ্যাস কোম্পানি তাদের সঙ্গে গ্যাস বিক্রির চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাদের বলেছি, আমি সেই বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, যিনি দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাই এমন পিতার সন্তান হয়ে ক্ষমতার জন্য দেশের স্বার্থহানি করতে পারব না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ নির্বাচনের আগে লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারের বাংলাদেশ সফরে আসেন। লতিফুর রহমানের বাসায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের পক্ষে আমি এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান গিয়েছিলামি। বিএনপির পক্ষে গিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এবং মান্নান ভূঁইয়া। সেখানেও আমাকে একই প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমি তাদের বলে এসেছি ক্ষমতায় আসার জন্য আমি দেশের সম্পদ বিক্রি করব সেই বাবার মেয়ে আমি নই। আমি চলে আসি, খালেদা জিয়া থেকে যায়। বিএনপি তখন তাদের সঙ্গে প্রস্তাবে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছিল।’

বিএনপির গত সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০০৬ সালের অক্টোবরে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৭ সালে নির্বাচনের সময় ব্যর্থ হওয়া উপদেষ্টারাই এখন টকশোতে যান, কথা বলেন। তারা টকশোতে গেলে বলা উচিত কী কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেসময় কেন এমন ঘটেছিল। তখন তারা কেন ব্যর্থ হয়েছিল তা কখনো বলেননি।’

২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরের তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন চার উপদেষ্টা। ওই চার উপদেষ্টার পদ পূরণ করে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

পরে তত্ত্বাবধায় সরকার বাতিল হওয়ায় ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি তত্ত্বাবধায় সরকার পুনর্বহালের দাবিতে অন্দোলনরত বিএনপি।

তবে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন আন্দোলন-সংগ্রামে জ্বালাও-পোড়াও আর যোদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জোট করার কারণে ভোট পাবে না বলে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়নি, কারণ তিনি (খালেদা) জানতেন যে, ভোট পাবেন না। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। তাই যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ভোট পাবে না জেনেই তারা নির্বাচন বর্জন করে।’

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ. সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কার‌্যনির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন কামরান, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত