টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রোহিঙ্গা মুসলমান: তোমাদের জন্য আমাদের কাঁদেনা প্রাণ!

চট্টগ্রাম, ১৬ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  এক সময় যখন শুনতাম, রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে চলে আসছে তখন ভাবতাম, এমনিতেই আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি তার উপর তাদের আগমন আমাদের জন্য শুভ হবেনা। আমার এ ধারণা ছিল আগের ,যখন রোহিঙ্গাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলেনি। আমরা মানুষ, বিবেক আছে বলেই আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি। এ বিবেক আমাদের মানবতাবোধ জাগ্রত করে। ফলে মানবতা যখন লুন্ঠিত হয় , বিবেক তখন আমাদের ভাবায়। কিন্তু বিবেকহীন মানুষগুলো থাকে সাবলীল ভঙ্গিমায়। জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠণ এবং মানবতার ধোঁয়া তোলা রাষ্ট্রগুলোও নিরব, তা মানলাম। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা দেখেই হৃদয়ে জাগা বেদনা থেকে আমার এ শিরোণাম।

মুসলমান হিসেবে আমরা নিজেরা ঠিক নেই বলেই মনেহয় আমাদের অপর মুসলমানের জন্য প্রাণ কাঁদেনা। আমাদের ভেতর আমরা যদি একে অপরের মঙ্গল না চাই, আরেকজন সুন্দর চলুক তা না চাই, স্বার্থের জন্য আরেকজনকে বিপদে ফেলতে দ্বিধা না করি, আরেকজনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসাবার সময় চিন্তা না করি, একজন মানুষ অন্যায় করে তবুও তার পক্ষ নিতে লজ্জা না করি, সর্বোপূরি আমাদের ভেতর একে অপরের যদি মায়া না জাগে তাহলে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাণ কাঁদবে কী? অথচ আমরা মুসলমান। সুতরাং আমাদের ভেতর আগে সত্যিকারের ভালবাসা জাগাতে হবে। বর্তমানের বৈশিষ্ট্যতো সত্যিকারের মুসলমানের বৈশিষ্ট্য নয়। নবী-রাসুল(স:), সাহাবায়ে কেরাম যে আদর্শ দেখিয়ে গেছেন, সেই আদর্শের মুসলমান আমরা হলে শুধু রোহিঙ্গা মুসলমান নয়; দুনিয়ার যেকোন প্রান্তের মুসলমানের গায়ে আঘাত লাগলে আমাদের কলিজায় আঘাত লাগার কথা! যেহেতু আমরা হযরত উমর, আলী এবং বীর খালেদ (রা:) এর উত্তরসূরী। আমাদের হৃদয়ে আঘাত লাগলে জোর এবং যৌক্তিক প্রতিবাদের মাধ্যমে আমাদের সরকারের কাছে মানবতা লংঘিত দেশটির উপর প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের ঝড় বইয়ে দেয়ার আহবান জানাতে পারি।

যদিও জাতিসংঘ অনুরোধ জানাচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেয়ার, আমার সীমিত জ্ঞানে মনেহয়, এটা সমাধান হতে পারেনা। সমাধান হবে, জাতিসংঘের স্বীয় প্রভাব খাটিয়ে মানবাধিকার লংঘনের যে দৃশ্য মায়ানমার দেখাচ্ছে, তা বন্ধ করা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেয়া না দেয়া সেটা আমাদের সরকারের নিজস্ব এখতিয়ার। তবে সংসারে অভাব হলে যেমন কোন কিছু আমরা ভাগ করে সব সদস্যরা নিই; তেমনি আমাদের সরকারও চাইলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে পারে। তাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মনেহয় এতটুকু কষ্ট পেতে হবেনা; যতটুকু কষ্ট স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের মানুষ পেয়েছিল। বরং এটা ভাবা যায়, এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্র যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ; সেই পরিস্তিতি যদি আমাদের রাষ্ট্রেও হয় (আল্লাহ না করুক) তখন নিশ্চয় আমাদেরকেও এরকম প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইতে হতে পারে। ঐ অবস্হায় কি প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন হবেনা? যদি প্রয়োজন হয় তাহলে প্রতিবেশীর প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া দরকার। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে প্রতিবেশি যেকোন রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়ানো উচিত বলে মনেকরি। মুসলমান রাষ্ট্রপ্রধানরা সারা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানের প্রতিনিধি। তাদের নিরব ভূমিকা আমাদেরকে আশাহত করে । তারা ভুলে গেলে চলবেনা যে, দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান একটি দেহের মত। আজ তারা নিজেকে নিরাপধ মনে করলেও কাল যে নিরাপত্তার চাদর উঠে যাবেনা তার গ্যারান্টি কোথায়? সুতরাং মুসলমানদের অহংকার রাষ্ট্রপ্রধানদের উচিত, নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জোরালো ভূমিকা রাখা। বিশ্ব মুসলিম নেতাদের নিরব ভূমিকার জন্যই এ কথা বলা । তা নাহলে লংঘিত মানবতার প্রতিবাদের জন্য সবারই সোচ্ছার হওয়া প্রয়োজন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। আমরা অহংকার করতে পারি, গর্ব করতে পারি আমাদের দেশকে নিয়ে । তবে এ গর্ব বা অহংকারের ঔজ্জল্য বহুগুণ বেড়ে যাবে যদি আমরা নির্যাতিত, নিপীড়িত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের পক্ষে লংঘিত মানবতার পরিত্রাণের জন্য জোরালো প্রতিবাদের সাথে পাশে দাঁড়াতে পারি। আর বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতার। নয়তো পরিষ্কার হয়ে যাবে পারষ্পরিক বিপদে আমাদের প্রাণ কাঁদেনা!

লেখক:  আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ(নোমান) , কলামিস্ট এবং শিক্ষক, আনোয়ারে রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা,সাতকানিয়া। সাবেক শিক্ষক, বর্ডার গার্ড ইংলিশ স্কুল, সাতকানিয়া ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত