টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ: সমরশক্তির জানান দিল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম, ১৬ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  বিজয় দিবসের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা উঠে আসলো। প্রথমবারের মতো আনা ডুবোজাহাজ সাবমেরিন প্রদর্শন করা হলো এই আয়োজনেই।

সকাল ১০টার দিছু সময় আগে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শুরু হয় এই কুঁচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা। তিন বাহিনীর পাশাপাশি, মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলও কসরত তুলে ধরে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাফল্যও তুলে ধরা হয় কুচকাওয়াজে। মেজর জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এই কুচকাওয়াজের অধিনায়ক ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান।

মেজর সৈয়দ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে প্রথমেই আসে জাতীয় পতাকাবাহী দল। তাদেরকে সশস্ত্র সালাম জানায় একটি দল।

অভিবাদন মঞ্চের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতিকে দেখে দেখে আগায় বিজয় দিবস প্যারেড’ ২০১৬। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকবেন জাতীয় চার নেতা- শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ ক্যাপ্টেন (অব.) মনসুর আলী এবং শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

প্রতিকৃতির সারিতে আরও ছিল দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। বাংলাদেশের অভিভাবকদের সাথে প্রতিকৃতিতে আরও আছেন মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ।

একটি খোলা জিপে করে রাষ্ট্রপতি অভিবাদন নেওয়ার পর প্যারেড কমান্ডার মেজর জেনারেল মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অনুসরণ করে ময়দানের দক্ষিণ দিক থেকে দীপ্ত সঙ্গীতের তালে একে একে এগিয়ে যায় সম্মিলিত পতাকাবাহী তিনটি দল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট, সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর স্ব স্ব কন্টিনজেন্টসমূহ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী বিভাগসমূহ।

এরপর একে একে না সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এই কুচকাওয়াজে অংশ নেন। এদের মধ্যে আরও আকর্ষণীয় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলের কুচকাওয়াজ।

যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করা বিশ্বের দুটি দেশের একটি হল বাংলাদেশ। আরেকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমন একটি দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনী যে শত বাঁধা ঠেলে একদিন বিশ্বের বুকে নিজের বীরত্বপূর্ণ অস্তিত্বের জানান দিবে তা বলাই বাহুল্য। আর বাংলাদেশ প্রতিরক্ষাবাহিনী নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে প্রতিবছর বেছে নেয় মাতৃভূমির বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর।

প্যারেড ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন গর্বিত অংশীদার-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী আর বিমানবাহিনী তাদের স্ব স্ব সক্ষমতার নিদর্শন স্বরূপ সব অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র আর অসম সাহসী সেনাদের সমন্বয়ে তুলে ধরে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে।

এর আগে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে ছয়টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকার পুরাতন বিমান বিন্দর (রানওয়ের দক্ষিণ প্রান্ত) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনি করা হয়। সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের পাশাপাশি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর চলমান প্রদর্শনীও হয় ময়দানে।

সামরিক শক্তিমত্তার প্রদর্শন

এবারের কুচকাওয়াজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া যুদ্ধাস্ত্র ‘সাবমেরিন’। প্রথমবারের মতো কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যুক্ত হয়েছে সাবমেরিন। সমুদ্রসীমা পাহারা দিতে, প্রয়োজনে অনুপ্রবেশকারী শত্রুকে অব্যর্থ আক্রমণ করতে সাগরে ভাসা জাহাজের পাশাপাশি কাজ করবে সামরিক পরাশক্তি, বন্ধুরাষ্ট্র চীন থেকে সংগ্রহ করা এই সাবমেরিন।

কুচকাওয়াজে তুলে ধরা হয় ট্যাংক, ৩৯ কিলোমিটার দূরে গোলা বর্ষণে সক্ষম কামানসহ নানা যুদ্ধাস্ত্রও।

প্রতিবারের মত এবারও বিজয় দিবস প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশ ভেদ করে উড়ে চলা বাংলাদেশ বিমান, সেনা, নৌ এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা ৪৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার। ২০০ ফুট দীর্ঘ ও ১২০ ফুট প্রস্থের একটি লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা নিয়ে কুচকাওয়াজে দৃপ্ত ভঙ্গিতে অংশ নেয় কমান্ডোদের দল। ওয়ার ডগ ও সম্মিলিত অশ্বারোহী কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায় বিশেষ ভঙ্গিমায়।

ময়দানে উপস্থিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনী প্রধান, সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রীবর্গ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক-বেসামরিক অতিথি, আর কূটনীতিকদের মুগ্ধ করে উড়ে যায় অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মিগ-টোয়েন্টি নাইন। যুদ্ধবিমানের অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে দেখে সবার মত মুগ্ধতায় সিক্ত হয় দেশের আপামর জনসাধারণ।

সমরশক্তির পাশাপাশি সবগুলো মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করা হয় কুচকাওয়াজে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় আকর্ষণীয় সাজে গাড়ি সাজিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে।- ঢাকাটাইমস

মতামত