টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণে জাতি

চট্টগ্রাম, ১৬ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তি পেতে ১৯৭১ সালে ৯ মাসের তুমুল যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশের আবির্ভাব হয়েছে, বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকীতে সেই অকুতোভয় বীর বাঙালি সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতি। শুক্রবার বিজয় দিবসের শুরুতে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। আবালবৃদ্ধবনিতার পদভারে মুখরিত স্মৃতিসৌধ এলাকা। লাল সবুজের দখলে রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি, জীর্ণ একতলা বাড়ির ছাদ থেকে সুউচ্চ ভবনের ছাদ, দ্বিচক্র যান থেকে শুরু করে সব ধরনের গাড়ি-সবখানে উড়ছে বিভিন্ন আকৃতির লাল-সবুজ পতাকা। বঙ্গবন্ধুর বজ্র ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

দেশের শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবী এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে কয়েকজনের রায় কার্যকর হওয়ায় অনেকটা স্বস্তি নিয়ে এবারের বিজয় দিবস পালন করছে জাতি।

দিবসটি পালন শুরু হয় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। মহান বিজয় দিবসে উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। পরে জনগণের জন্য স্মৃতিসৌধ এলাকা খুলে দেয়া হলে সেখানে জনতার ঢল নামে। দেয়া হয়। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধ। শ্রদ্ধার সঙ্গে তারা শহীদদের উদ্দেশে নিবেদন করছেন পুষ্পাঞ্জলি।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকজনের সবার হাতে ছিল ফুল, আর কণ্ঠে ছিল নতুন শপথ রাজাকারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদসহ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

সাভারের মতো রাজধানীতেও চলছে বিজয় বরণ। বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হতে রাজপথে নেমে এসেছে লাখ লাখ শিশু-কিশোর-তরুণ বৃদ্ধ সবাই। সবার চোখেমুখেই আছে বিজয়ের আনন্দ।

ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচি

সকাল পৌনে আটটায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৮টায় গণভবন থেকে মহান বিজয় দিবস-২০১৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করবেন তিনি।

সকাল ১০টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ার বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন। বিকাল পৌনে চারটায় বঙ্গভবনে বিজয় দিবসের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিচারপতি, রাজনৈতিক, কুটনৈতিক, কবি, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন। বিকাল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় থ্রিডি লেজার শো অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকার সদর ঘাট, নৌ ইউনিট পাগলা নেভাল জেটি, নারায়ণগঞ্জ- নেভাল জেটি, নিউমুরিং, চট্টগ্রাম- বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাট, খুলনা-নেভাল বার্থ, দিগরাজ, মংলা, বাগেরহাট ও বিআইডব্লিউটিএ জেটি- বরিশাল এবং বিআইডব্লিউটিএ জেটি- চাঁদপুর এ বেলা ২টা থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

বেলা ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সেনাবাহিনীর বাদক দল, সদর ঘাট এলাকায় নৌ বাহিনীর বাদক দল, মিরপুর দুই নম্বর জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় বিমান বাহিনীর বাদক দল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থার সম্মিলিত বাদক দল বাদ্য পরিবেশন করবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত