টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জানুয়ারি থেকে পানির দাম ৪০% বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রাম ওয়াসার

চট্টগ্রাম, ১৫ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম বাড়ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাবনা চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এসেছে। তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে পানির উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। সুতরাং ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ছে না।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ ক্ষতি কমানোর অজুহাত দেখিয়ে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বিধিমতে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধির ক্ষমতা থাকলেও প্রস্তাবিত মূল্য বর্তমান মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি লিটার পানির গড় বিক্রয় মূল্য ৯ দশমিক ২৭ টাকা। দরবৃদ্ধির কারণ হিসাবে এ শ্রমিক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, সিস্টেম লসসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিলো।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, ওয়াসার পানির দাম বাড়াতে গেলে গণশুনানির নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা না করেই এই মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি ভোক্তার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে।

আবাসিকে প্রতি ইউনিটে (১ হাজার লিটার) ২ টাকা ৩৯ পয়সা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ১০ টাকা ৪৪ পয়সা দাম বাড়ানোর অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

পানি সরবরাহ ও পয়ো:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন-১৯৬৬ এর ২২(২) ধারামতে প্রতি বছর একবার করে ৫ শতাংশ হারে ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের শুরুতে একবার বাড়ানোর পর আবাসিকে ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ ও বাণিজ্যিকে ৪৮ দশমিক ৪২ শতাংশ হারে দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

গত ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়, শ্রমিক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ওয়াসার এক ইউনিট পানি উৎপাদনে খরচ হয় ১৫ দশমিক ০৬ টাকা। আর গড় বিক্রি হয় ৯ দশমিক ২৭ টাকায়।

তাছাড়া ‘চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট ও সেনিটেশন প্রকল্পের’ জন্য নেওয়া ঋণের কারণে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে বিধায় আয় ব্যয়ের মধ্যকার অবস্থা নাজুক হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, দাম বাড়ানোর অনুমতি চেয়ে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে যত টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেবে তত বাড়ানো হবে।

পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, একে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, আবার পানির বাড়াচ্ছে। তারা সব সময় সিস্টেম লসের কথা বলে থাকে। দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মচারী অবৈধভাবে পানি সরবরাহ করে, সে বিষয়টিও তারা সিস্টেম লস হিসেবে প্রচার করে।

এগুলো বন্ধ করতে পারলে পানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে জানান ক্যাব সভাপতি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার অধীনে মোট সংযোগ লাইন আছে ৬৩ হাজার ৫৪৫ টি। এর ৮৮ শতাংশ সংযোগ আবাসিকে, বাকী ১২ শতাংশ শিল্প ও বাণিজ্যিকে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়ে আবাসিক প্রতি ইউনিটে ৭ দশমিক ৬১ টাকা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগে ২১ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করার এখন পর্যন্ত তা কার্যকর রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত