টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডিজিটাল ছেড়ে এনালগে মালবাহী ট্রেনগুলো

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৫  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যখন তোড়জোড়, ঠিক সে সময় অর্থাভাবে বন্ধ রয়েছে রেলওয়ের কম্পিউটার সেল। প্রায় ১১ বছর ধরে বন্ধ মালবাহী ট্রেন চলাচলের ডিজিটাল ওই প্রকল্পটি। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ হাল হয়েছে বলে মন্তব্য রেলওয়ে কর্মকর্তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালবাহী ট্রেনগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনতে নরওয়ে সরকারের অনুদানে প্রায় ১৪ বছর আগে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। সেলগুলো চালুর কিছু দিন পর থেকে একে একে ৩ বছরের মাথায় কম্পিউটার আর সোলার প্ল্যান্টগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সব কার্যক্রম। ফলে প্রকল্পে নিয়োগকৃতদের সরিয়ে নেওয়া হয় ভিন্ন অফিসে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল রেলওয়েতে পণ্য পরিবহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে মালবাহী ট্রেনের অবস্থান স¤পর্কে জানতে পারা। এ ছাড়া রেলওয়ের অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কম্পিউটার সেলের মাধ্যমে।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন পার্বতীপুর, খুলনা, দর্শনা, সান্তাহার, বোনারপাড়া, সিলেট, কুমিল্লা, পাহাড়তলী, আখাউড়া ছাড়াও পাকশী, লালমনিরহাট ও চট্টগ্রাম কন্ট্রোলসহ ২০টি স্থানে অ্যাডভান্স কার্গো ইনফরমেশন সিস্টেম চালু করা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এ পদ্ধতি চালু করে সুফল পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে অর্থ বরাদ্দের অভাবে সাজানো এই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে।

প্রকল্পের চট্টগ্রাম স্টেশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এম এ মঈদ জানান, রেলওয়েকে কম্পিউটারাইজ করতে ৪০ জন রেলওয়ে কর্মচারীকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে কম্পিউটার সেল গঠন করা হয়। তাদের মধ্যে ২২ জনকে প্রমোশন দেওয়া হয় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে। সেলগুলোতে ডাটাবেজ, ডাটা এন্ট্রি, কালেকশন, অর্ডার লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন তারা।

ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে অগ্রিম অবগত হতে পারতেন মালপত্র পরিবহনকারীরা। কিন্তু অর্থাভাবে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারায় একে একে কম্পিউটার ও সোলার প্ল্যান্টগুলো নষ্ট হতে থাকে এবং ২০০৪ সালের মধ্যে সব স্টেশনের কম্পিউটার ও সোলার প্ল্যান্ট নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে গেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও। এ প্রকল্পের কর্মচারীরা কিছুদিন বসে থেকে কম্পিউটার সেল ছেড়ে এখন কাজ করছে রেলওয়ে স্টেশনের ট্রেন্সসহ বিভিন্ন অফিসে।

মঈদ আরও জানান, প্রতিটি স্টেশনে একটি করে কম্পিউটার সেট ও সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও গুরুত্ব বিবেচনা করে পার্বতীপুর ও সান্তাহারে দুটি করে কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়। ২০০৪ সালে এই পদ্ধতি পুরোপুরি অচল হয়ে গেলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও কম্পিউটার সেলগুলো চালুর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

রেল ভবনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রজেক্টটির অপমৃত্যু ঘটেছে। ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের সার্ভার নষ্ট হওয়ায় এমনটি হয়েছে। ধীরে ধীরে প্রতিটি স্টেশনের কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে আর মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নরওয়ে একবারই এ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু পরে আর বরাদ্দ মেলেনি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, রেলপথে মালবাহী ট্রেন কমে যাওয়ায় এবং অর্থায়নের অভাবে কম্পিউটার সেলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম) এর মহাব্যবস্থাপক আবদুল হাই বলেন, প্রকল্পটি চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে। ভারতীয় একটি কো¤পানির সঙ্গে কথা হচ্ছে। প্রথমে সৈয়দপুরে শুরু করার কথা রয়েছে। সৈয়দপুরে শুরু করতে পারলে সব স্টেশনে আবার চালু হবে কম্পিউটার সেল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত