টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ের পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভগিরাম মালী, সংসার চালান ভিক্ষা করে!

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) থেকে

চট্টগ্রাম, ১৫ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরীয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার মাষ্টারপাড়া এলাকার ভগিরাম মালী (৬২)। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সহ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা অথচ ন্যার্য অধিকারগুলো তাকে দেয়া হলে সুন্দর ভাবে চলতো তিন সদস্যর পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভগিরাম মালীর পরিবার। রামগড় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় দিবসগুলোতে সামান্য সম্মাননা পেলেও বছরের বাকী সময় উপজেলার দোকান, বাসষ্টেশন ও ধনীদের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃক্তি করে পরিবার চালান এই অসহায় পুঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৬৯‘র অসহযোগ আন্দোলন ও ৭১‘র মুক্তিযুদ্ধে রামগড় ১নং সেক্টর তৎকালীন ক্যাপ্টেন রফিক এর অধীনে ভারতের (দক্ষিণ ত্রিপুরা) হরিনায় ট্রেনিং সেন্টারে ডাঃ কৃষ্ণ কুমার সরকার, আবুল হাশেম, অধিক চন্দ্র দে, নুর আলম এর সাথে ভগিরাম মালী মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে ভারতের হরিনায় ট্রেনিং সেন্টার হাসপাতালে রোগী আনা-নেয়া ভর্তি ও মালী (সুইপার) এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে মুক্তিযোদ্ধারা যখন তৎকালীন চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারটি শহীদ বজলুর রহমানের নেতৃত্বে দোহাজারী হতে বান্দরবান হয়ে রামগড় দিয়ে ভারতের আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয় সে সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য তিনিই সবার আগে সহযোগীতা করেছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা ভগিরাম মালী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমী গরীব বলে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আবেদন করেও মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারী গেজেটে আমার নামটি উঠেনি এবং গ্রেজেটে আমার নাম তালিকাভুক্ত করাতে পাচ্ছিনা প্রয়োজনীয় সহযোগীতা। তিনি আরো জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র থাকছেন তাই অন্যের ভাড়া বাড়িতে একমাত্র কন্যা ও স্ত্রীর দেখাশুনা করতে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভিক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি সহ তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি দাবী জানান।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুর রহমান জানান, একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভগিরাম মালী এর আগেও আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছে এরপরও এই মুক্তিযোদ্ধার নাম না থাকা দুঃখ জনক। পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা হালনাগানের সময় বিষয়টি দেখা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত