টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্দরনগরীতে জানুয়ারি থেকে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ!

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৪  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডোর টু ডোর (ঘরে ঘরে গিয়ে) পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে নতুন বছরের শুরু থেকেই। তবে ব্যাপক প্রস্তুতির এ কর্মপরিকল্পণা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ১৬ ওয়ার্ডে শুরু করা হচ্ছে এ কার্যক্রম।

এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করেপারেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নতুন বছরের শুরু থেকে নগরজুড়ে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের ঘোষনা দেন। এ জন্য তিনি ব্যাপক কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করেন। এরমধ্যে নগরীর ৬০ লাখ বাসিন্দার প্রতিটি পরিবারে ময়লা রাখার পরিবেশ বান্ধব বিন বা ঝুড়ি বিতরণের কাজ রয়েছে।

কিন্তু ৬ মাসেও বিন বিতরণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ৭টি ওয়ার্ডে পুরোপুরি এবং ৯টি ওয়ার্ডে দুই-তৃতীয়াংশ বিন বিতরণ করতে পেরেছে চসিক। এছাড়া এ কর্মপরিকল্পণার মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহে জনবল নিয়োগের বিষয় রয়েছে। যা পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরজুড়ে একইসাথে ডোর টু ডোর টু ময়লা সংগ্রহের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজেই।

জানতে চাইলে আ জ ম নাছির উদ্দীন সিটিজি টাইমসকে বলেন, আসলে বলাটা যত সহজ, করাটা তত সহজ নয়; অনেক কঠিন। যা কাজে হাত দিয়ে বুঝলাম। তবে যত কঠিনই হোক না কেন; ডোর টু ডোর টু বর্জ্য সংগ্রহ পুরোপুরি ভাবে চালু করা হবেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এ পর্যন্ত নগরীর ১৬টি ওয়ার্ডে বিন বিতরণ করতে পেরেছি। আবর্জনা সংগ্রহে প্রায় দুই হাজার কর্মীর এক তৃতীয়াংশ নিয়োগ শেষ করেছি। এ অবস্থায় আমরা থেমে থাকতে চাই না। জানুয়ারিতে এ কার্যক্রম শুরুর কথা যখন বলেছি শুরু করবই।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাইলে নগরজুড়ে এ কাজ শুরু করতে পারতাম। কিন্তু আমরা চাইছি; কেউ যেন বলতে না পারে, কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গেল কেন? আমরা প্রথমে চিন্তা করেছিলাম ৭টি ওয়ার্ড থেকে ডোর টু ডোর বর্জ্য শুরু করব। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে ওয়ার্ডগুলোতে বিন বিতরণ শেষ হয়েছে সবগুলো ওয়ার্ডে এক সাথে বর্জ্য সংগ্রহ শুরু করব। এর ভেতরে বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও বিন বিতরণ স¤পন্ন হয়ে যাবে। এরপর আমরা নগরীর সব ওয়ার্ড থেকে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ শুরু করব।

এ ব্যাপারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, প্রাথমিকভাবে যে ১৬টি ওয়ার্ডে বিন বিতরণ করা হয়েছে সেসব থেকে জানুয়ারি মাসের এক তারিখ থেকে আমরা স্বল্প পর্যায়ে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রথমে ৭টি ও পরে ৯টি ওয়ার্ডে শতভাগ বিন বিতরণ স¤পন্ন হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে ৫০ শতাংশ বিন বিতরণ স¤পন্ন হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে ১৮ জন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১০ লাখ বিনের মধ্যে পাওয়া গেছে ৫ লাখ বিন। ২০০০ ভ্যানের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ১০০০ ভ্যান।

শৈবাল দাশ সুমন বলেন, মেয়র চাইছেন এ প্রকল্পের ব্যয় যেন বেশি না হয়। স্বল্প খরচে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা খরচ কমানোর ২০০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জায়গায় আরো কম শ্রমিকের মাধ্যমে কাজটা করব।

উল্লেখ্য, পুরোপুরি বিন বিতরণ করা ওয়ার্ডগুলোর অন্যতম হচ্ছে গোসাইলডাঙ্গা, পশ্চিম ষোলশহর, শুলকবহর, এনায়েত বাজার, বাগমনিরাম, উত্তর পাঠানটুলী এবং আলকরণ ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডের প্রতিটি ঘর-বাড়ি, দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে একটি বিন (ঝুড়ি) সরবরাহ করা হয়েছে। ৪০০ পরিবারের জন্য কাজ করবে একটি ভ্যান। প্রতিটি ভ্যানে সেবক থাকবে দুজন করে। তবে কোন মহিলা সেবক থাকবে না।

প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত এসব ওয়ার্ডে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করবে সেবকরা। সেই আবর্জনা ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হবে নির্ধারিত ডাস্টবিনে। ডাস্টবিন থেকে গাড়িতে করে এসব আবর্জনা শহরের বাইরে নিয়ে ডা¤িপং করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত