টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে স্বরণকালের বৃহত্তম জশনে জুলছ (ভিডিও)

ছবিঃ সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ১৩  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ঈদ মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে জশনে জুলছ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জশনে জুলুছের র‌্যালি শুরু হয়।র‌্যালীতে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তান থেকে আগত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জু.আ)।

এদিকে, হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্‌ মাদ্দাজিল্লুহুল আলীকে একনজর দেখতে জুলুসের রাস্তার দুপাশে লাখো আশেকের সমাগম হয়েছে। চকবাজার, দিদারমার্কেট, আন্দরকিল্লা, চেরাগিপাহাড়, জামালখান, প্রেসক্লাবসহ জুলুসের পূর্বনির্ধারিত রুটটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। হামদ, নাত, দোয়া, দরুদ আর কোরআনের সুললিত তেলাওয়াতে পুরো এলাকায় অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

রং রে রং এ চাঁদ তারা খচিত এবং কালেমা লেখা ব্যানার পেষ্টুন প্লেকার্ড নিয়ে বাস, ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল যোগে কয়েকশ গাড়ি যোগে এ র‌্যালী নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অপর দিকে হাজার হাজার বাস, ট্রাক, জিপ, মোটরসাইকেলে নানা শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষ। দিদার মার্কেট, আন্দরকিল্লা সিটি করপোরেশন মার্কেটের দোতলাসহ বিভিন্ন ফুটপাত, ভবনের ছাদ, বারান্দাসহ উঁচু জায়গায় অপেক্ষমাণ দেখা গেছে পর্দানশিন অনেক নারীকেও। কেউ কেউ জুলুসে আসা অতিথিদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তবারক হিসেবে দিচ্ছেন লেবুর শরবত, জুস, কলা, আপেল, কমলা, বড়ই, আঙুর, বন, রুটি, চকলেটসহ হালকা খাবার। তবররক হিসেবে এসব খাবার যত্নের সঙ্গে সংগ্রহ করেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ।

নগরী ছাড়াও জেলার ১৪ উপজেলা থেকে মানুষ এ জুলুছে অংশ নিয়েছেন ফলে স্বরণকালের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় শুভাযাত্রায় পরিণত হয় এ জুলুছ।জুলুছের প্রধান আকর্ষণ আল্লামা তাহের শাহকে বহনকারী গাড়ির সামনে ও পেছনে জনতার ঢল নামে।

সকালে শুরু হয়ে জুলুছ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে দুপুরে পূনরায় ষোলশহর খানকাহ্-এ-কাদেরিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আল্লামা তাহের শাহ’র নেতৃত্বে জুলুছ শুরু হয়। বিবিরহাট মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, চন্দনপুরা, সিরাজুদৌলা রোড হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও জোহরের নামাজের পর মোনাজাত শেষে জুলুছের সমাপ্তি ঘটছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর ষোলশহরের আলমগীর খানকাহ্‌-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া জামেয়ার ময়দানে জামেয়া আহাম্মদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার মুফতি আল্লামা ওবায়দুল হক নইমি বলেছেন, আজ মুমিনদের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন।  মুমিনদের সবচেয়ে বড় উৎসব ১২ই রবিউল আউয়াল, কারণ এদিনে পৃথিবীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  এদিনটি উদযাপন করতে আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তাঁর বান্দাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

জুলুসে অংশ নিতে আসা পটিয়ার অশীতিপর বৃদ্ধা আবদুল হান্নান জামালখানে  বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ জুলুসে আসার জন্য প্রতিবছর অপেক্ষায় থাকি। এ দিনটি আমার কাছে ঈদের খুশির মতো।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আল্লামা তাহের শাহ’র নেতৃত্বে জুলুস শুরু হয়েছে। বিবিরহাট মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, চন্দনপুরা, সিরাজুদৌলা রোড হয়ে আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, জামালখান, গণিবেকারি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও জোহরের নামাজের পর মোনাজাত শেষে জুলুস শেষ হয়।

মতামত