টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাষ্ট্রপতিকে ভুল বুঝানো হয়েছে: আপিল বিভাগ

চট্টগ্রাম, ১২ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতির আর কোনো ক্ষমতা নেই। তার হা বা না বলার সুযোগ নেই। এটা করলে সরকারের পতন হবে না। ক্যাবিনেট ও সংসদেও যেতে হবে না। মাসদার হোসেন মামলার ৮০ শতাংশ কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কোনো কম্প্রমাইজ করতে চাই না। পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই। সরকারকে গেজেট প্রকাশ করতেই হবে।’

অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য সুপ্রিমকোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির খসড়া গেজেট প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতির পরিপত্র জারি করার এক দিন পর সোমবার এমন কথা বললেন প্রধান বিচারপতি।

এই খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘শৃঙ্খলা বিধিটা আমরা করি নাই। আপনারই করেছেন। সেটিতে আমরা কিছু মাত্র সংশোধন করে দিয়েছি।’

শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি পরিপত্র দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিষয়টিতো আমরা জানি না। সেটি তো আমাদের দেবেন। রেজিস্ট্রার জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের দপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন।’ এরপর প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে পরিপত্রটি পড়তে বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পরিপত্রটি আদালতকে পড়ে শুনান।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

গত বৃহস্পতিবার মাসদার হোসেন মামলার রায় অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে না পারায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করে আপিল বিভাগ।

রবিবার বিকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, অধঃস্তন আদালতের বিচারকগণের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রস্তাবিত আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাবিধির খসড়া বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নাই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ।

গত বৃহস্পতিবার মাসদার হোসেন মামলার শুনানির সময় আপিল বিভাগ বলে, ‘গেজেট প্রণয়নে বার বার সময় দেওয়া সত্ত্বেও এখনও তা প্রকাশ করেনি। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ দিনও গেজেট প্রকাশের জন্য সময় আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ১ ডিসেম্বর গ্রেজেট প্রকাশ করার জন্য এক সপ্তাহ সময় বাড়ান। তার আগে গত ২৪ নভেম্বর এক সপ্তাহ সময় দেয় আপিল বিভাগ। গত ৭ নভেম্বর বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে করতে সরকারকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দেয় আপিল বিভাগ।

ওই দিন আপিল বিভাগ বলেছিলেন, এটাই শেষ সময়। আর কোনো সময় দেয়া হবে না। ওই দিনি বিধিমালা প্রণয়নের কাজ কতদূর এগিয়েছে সে বিষয়ে একটি এফিডেভেট দাখিল করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাতে বলা হয়, চাকরির শৃঙ্খলা বিধির খসড়া রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কবে পাঠানো হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে তা দিনক্ষণ উল্লেখ না থাকায় আপিল বিভাগ বলে, ‘আপনাদের এই আবেদন অস্পষ্ট।’ এরপর ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় আদালত।

গত ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ বলে, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিমকোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।-ঢাকাটাইমস

মতামত