টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নগরীতে ‘ধর্ষণের পর’ গৃহকর্মীকে আটতলা থেকে ফেলে খুন

চট্টগ্রাম, ১১ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): নগরীর পূর্ব নাছিরাবাদে খাদিজা বেগম জান্নাত (১৯) নামে এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর আটতলা থেকে ফেলে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী অপর এক গৃহকর্মী।

রোববার (১১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন লায়লা বেগম (২০)।  ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

শুক্রবার রাতে পাঁচলাইশ থানার মসজিদ গলি এলাকায় একটি ভবনের নিচ থেকে খাদিজা খাতুন জান্নাত (২০) নামে এক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর বাসায় তালা দিয়ে ভবন মালিক স্বপরিবারে পালিয়ে যায়। নিহত জান্নাত কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি মঘঢেইল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সৈয়দের মেয়ে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর বাড়ির গৃহকর্তা পরিবারসহ পালিয়ে গেছে।  ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে পাইনি।  তবে জবানবন্দিতে ধর্ষণের পর হত্যার কথা এসেছে।  আমরা পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

খাদিজা মসজিদ গলিতে মাহমুদ উল্লাহ ও শায়েলা খাতুন দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন বলে জানিয়ে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, শুক্রবার ভবনের নিচ থেকে জান্নাতের লাশ উদ্ধার করার পর ওই বাসায় কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহকর্মীর বাবা মোহাম্মদ সৈয়দ বাদী হয়ে ওই পরিবারের চার সদস্যসের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অপর গৃহকর্মী লায়লা বেগম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে জবানবন্দিতে জানান, জান্নাত দুই মাস আগে মাহমুদ উল্লাহ ও শায়েলা খাতুন দম্পতির বাসায় কাজ নেন। গত শুক্রবার দুপুরে গৃহকর্তার ছেলে মো. ফাওয়াদ (২৩) জান্নাতকে ধর্ষণের পর আট তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। ফাওয়াদ নগরীর ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বিবিএ-র শিক্ষার্থী।

লায়লা জবানবন্দিতে বলেছেন, ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে বাসার ড্রইং রুমে কাজ করার সময় জান্নাত জানায়, ফাওয়াদ তাকে ধর্ষণ করেছে। এসময় লায়লা বিষয়টি গৃহকর্ত্রীকে (শায়েলা খাতুন) জানানোর কথা বলার পরপরই জান্নাতকে বারান্দায় ডেকে নিয়ে যায় ফাওয়াদ এবং সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।

লায়লা আরও জানান, এসময় গৃহকর্ত্রী বাসা থেকে বের হয়ে লায়লাকে ভবনের চার তলায় তার বান্ধবীর (গৃহকর্ত্রী শায়েলার বান্ধবী) বাসায় চলে যেতে বলেন।

সে চারতলায় চলে যাওয়ার পর বাসার সবাই তালা দিয়ে চলে যায় বলে আদালতকে জানায় লায়লা।

ওই বাসায় দুই বছর ধরে কাজ করা লায়লাকেও ফাওয়াদ বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে এবং বিষয়টি গৃহকর্ত্রী শায়েলা অবগত ছিলেন বলেও জানান এ গৃহকর্ত্রী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত