টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অপার পর্যটন সম্ভাবনাময় ইছাখালী চর

এম মাঈন উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১১ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  গাছ-গাছালিতে ভরা সবুজের সমারোহ পাখিদের কলতান দেখে মুগ্ধ করে সবাইকে। দেখা মেলে দলবেঁধে মহিষ আর ভেড়ার ছুটে চলা। আহ! কি অপরূপ দৃশ্য। একবার দেখলে বার বার দেখতে মন ছুটে যায়। এর নাম ইছাখালীর চর। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ধীরে ধীরে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। যেখানে এখন বাস্তবে রূপপাচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার স্বপ্ন। দেশের সবচেয়ে বড় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠছে ১৫ একর জমির উপর। এখানে গড়ে উঠবে বিশেষায়িত কমপক্ষে ৫০ টি উপ-অর্থনৈতিক অঞ্চল। গড়ে তোলা হবে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা সংবলিত পুর্নাঙ্গ শিল্প-নগর।

ইছাখালী চরাঞ্চলে অবস্থিত এক অপার সম্ভাবনাময় সম্পদে ভরপুর চরাঞ্চল। মিরসরাইয়ে পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় পরিচিত অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন অপরূপ শোভিত সৈকতের আরেক নাম মিরসরাই ‘ইছাখালী চর’। ইতোমধ্যে ‘মিরসরাই ইকোনোমিক জোন’ নামে পরিচিতি লাভ করে জেগে ওঠা ইছাখালী চর। গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। সম্ভাবনা রয়েছে নৌ ঘাটি ও বিমান বন্দরের।

প্রকৃতির অপরূপ প্রাণবৈচিত্রে সমৃদ্ধ ইছাখালী চর। যেখানে রয়েছে দূষণ ও কোলাহলমুক্ত সৈকত। অসংখ্য লাল কাঁগড়ার মিলনমেলা পূর্বপাড়ায় নতুন জেগে ওঠা চর। বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ শামুক, ঝিনুক নানা ধরনের কাঁগড়া, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, চরবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদাসিদে জীবন। জেলেদের সাগরে মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, বনবেষ্টিত আঁকাবাঁকা নদীপথে নৌকা ভ্রমণ, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় স›দ্ধীপ চ্যানেল হয়ে সাগরে মাঝ পথে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অবলোকন, স্থানীয় ও অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত যা পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বাড়তি আকর্ষণ।

সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন বিকাশে অন্যতম স্থান হতে পারে। পাশাপাশি চরবাসীর জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রে বিশেষ করে এ ধরনের চরাঞ্চলে পর্যটনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হলে পরিবেশ ও প্রাণীবৈচিত্রসসহ চরবাসীর সংস্কৃতির দিকে খেয়াল রেখে যথাযথ নীতিমালা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহন করা জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে পরিবেশ বান্ধব অবকাঠামো। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে হালকা মাজারী ও ভারী শিল্প কারখানার পাশাপাশি থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, এমনকি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকা।

স্থানীয়রা বলছে, এলাকার পুরো চিত্র পাল্টে যাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি শেখ আতাঁউর রহমান বলেন, আগামীর নতুন প্রজন্ম যারা শিক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠছে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রযুক্তিতে তাদের এখানে ভালো কর্মসংস্থান আয় রোজগারের একটা ব্যাবস্থা হবে। এলাকার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের একটা জীবন মানের উন্নয়ন হবে।

স¤প্রতি উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি দেখতে এসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানালেন আশার-আলোর কথা। বাংলাদেশের ১০০টি ইকোনোমিক জোন, তাঁর এটি একটি এবং এটিই হবে সর্ব বৃহত্তম। এখানে একটা বিশেষ শহর তৈরি হবে। শিল্পর সাথে শিল্প সংম্পৃক্ত যত কিছু প্রয়োজন এখানে যারা কাজ করবে তাদের আবাসস্থল, বিনোদনোর জন্য যায়গা, রাস্তা-ঘাট হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ সবই তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মতামত