টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রপ্তানিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

চট্টগ্রাম, ১০ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন পর্যন্ত অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশাল থাকায় ভবিষ্যত অর্থনীতির জন্য তা এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সকালে রাজধানীতে দক্ষতা নিয়োগ যোগ্যতা ও সহন শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেলেও মূলত তা তৈরি পোশাক ও সীমিত সংখ্যক বৈদেশিক বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমাদের ভবিষ্যত অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্য ও পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ একান্তভাবে প্রয়োজন।’

বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রণোদনাই যথেষ্ট নয়, আমাদের মূলধন ও প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব পণ্য তৈরি হয়, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বেশিরভাগ পণ্যের মজুরি বৃদ্ধি, উন্নত মান সৃষ্টি এবং মূল্য বৃদ্ধি যাতে হয় সে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের আরও বেশি চিন্তা করতে হবে যাতে আরও উন্নতমানের পণ্য কীভাবে বাজারজাত করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিখতে হবে কী করে বর্তমান পণ্যগুলোতে কীভাবে মূল্য সংযোজন করা যায়। যাতে তৈরি পোশাকসহ সর্বক্ষেত্রেই আমরা ভালো মজুরি এবং উন্নত মান করতে পারি এবং সেই সাথে মূল্যটাও যেন বৃদ্ধি হয়। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্ভাবন শক্তি, সৃজনশীলতা এবং কাস্টমাইজ উৎপাদনের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তখনই কেবল বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবার সাপ্লাই চেইনে আমরা নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে পারবো।’

দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ

উন্নয়নের জন্য দক্ষ শ্রমশক্তি প্রয়োজন জানিয়ে এ ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা দূর করে জাতীয় সক্ষমতা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিল্পের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পের প্রয়োজনে দক্ষব্যবস্থাপক তৈরির লক্ষ্যে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করারও আহ্বান জানান তিনি।

যার যার নিজের শিল্প কলকারখানায় চাহিদামাফিক যোগ্য কর্মীর জন্য শ্রমিক প্রশিক্ষণে উদ্যোগ নেয়ারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসনে নতুন প্রজন্মকে অনুরোধ করেন তিনি। বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা দিচ্ছে।

শিল্প কলকারখানা স্থাপনের জন্য ভূমিব্যাংক স্থাপনের পাশাপাশি সরকার নতুন নতুন শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য সহজকরণ, বন্দর সুবিধা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতিমধ্যেই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

শ্রমিক কল্যাণেও সরকার মনযোগী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘শ্রমিক-মালিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শ্রম কল্যাণের লক্ষ্যে বহুবিধ কর্মসূচি ইতিমধ্যে আমরা হাতে নিয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার শ্রমিক কল্যাণে শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং রপ্তানিমুখি শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করেছে। আর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য বিমা কর্মসূচি প্রবর্তন, কল কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এর উদ্যোগকে শক্তিশালী করেছে। কমিশন শক্তিশালী করা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের শ্রমিকদের শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনশক্তির কর্মউপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি অনস্বীকার্য হয়ে উঠেছে।

শিল্প উদ্যোক্তাসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশদারীত্ব ব্যতিত শুধু সরকারি উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিয়ে আসতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য তিনি শিল্পপতিদের স্ব স্ব কারখানায় কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগসহ শ্রমিকদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত