টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে বধ্যভূমির এ কী হাল!

৪৫ বছরেও নেই রক্ষনা-বেক্ষন

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১১ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বধ্যভূমি গুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তারমধ্যে ৩৫টি প্রকল্প বানিয়ে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ওই বধ্যভূমিগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু মহান স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও রক্ষনা-বেক্ষন নেই সীতাকুণ্ডের মুক্তিযোদ্ধের বধ্যভূমির। বছরের পর বছর ধরে স্থাপনা চিহ্নিত শহীদদের স্বারন করা হলেও অন্তরালে থেকে গেছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা বধ্যভূমির শহীদরা। স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পার হতে চললেও নেয়া হয়নি বধ্যভূমিতে স্বৃতি চিহ্ন তৈরীর উদ্যোগ। ফলে অযত্ন – অবহেলায় বিলিন হতে চলেছে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বধ্যভূমি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সীতাকুণ্ডে শহীদ হন ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া যুদ্ধকালীন সময়ে গন শহীদ হয়েছিলেন ১৬০ সাধারণ মানুষ। এসব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ১টি স্বৃতিস্তম্ব শহীদ মিনার থাকলেও অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা পড়ে রয়েছে পরিত্যাক্ত বধ্যভ’মিতে। উপজেলার নানা অজানা স্থানে অসংখ্য নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধের বধ্যভ’মি থাকলেও সরকারীভাবে নথিভুক্ত রয়েছে গুটি কয়েক বধ্যভ’মির নাম।

যেসব বধ্যভ’মির নাম উপজেলা মুক্তিযাদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে রেজিস্ট্রিাভুক্ত রয়েছে তা হলো- সীতাকুণ্ড রেল স্টেশন বধ্যভ’মি, চন্দ্রনাথ ধাম বধ্যভ’মি, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাক্কার রাস্তা বধ্যভ’মি, লালবেগ সিএনসি এস্টেশন বধ্যভ’মি, হাটহাজারী লিং রোড বধ্যভ’মি। রেজিস্ট্রিভুক্ত বধ্যভ’মির কিছুর স্বৃতি চিহ্ন থাকলেও অধিকাংশই হয়ে পড়েছে অরক্ষিত। ফলে রক্ষনা বেক্ষন ও তদারকি অভাবে দিনে দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বৃতি মুচে গিয়ে শহীদদের বধ্যভ’মিগুলো বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া স্বৃতি চিহ্ন না থাকার কারণে অধিকাংশ বহু বধ্যভ’মি অরক্ষিত হয়ে পড়ায় স্থপনা গড়ে তোলেছে দখলদাররা। এমনকি কিছু কিছু বধ্যভ’মির স্বৃতি চিহ্ন থাকার পরও দখলে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্থপনা। সোনইছড়ি ইউনিয়নের লালবেগ এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন বধ্যভ’মিটি দখল করে গড়ে তোলা চট্টলা সিএনজি ফিলিং স্টেশন। একইভাবে পৌরসভার রেল লাইন সংলগ্ন বধ্যভ’মিটি বেদখল হয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক স্থপানা। এভাবে একর পর এক শহীদদের বধ্যভ’মিগুলো বিলিন হয়ে পড়ায় বহু লোক স্বাধীনতার সময় হারানো পরিবারের সদস্যদের খোজ পাচ্ছে না কোনোভাবে। তাছাড়া যেসব স্থাপনা সমূহের কিছুমাত্র স্বৃতি চিহ্ন রয়েছে কোনো প্রকার রক্ষনা-বেক্ষনের অভাবে থাকায় তাও একে একে বিলিন হওয়ার পথে। এছাড়া যেসব বধ্যভ’মির স্বৃতি চিহ্ন নেই সেসব বধ্যভ’মি দখল হয়ে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। অথচ এভাবে অযত্ন-অবহেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের বধ্যভ’মিগুলো পড়ে থাকলেও রক্ষনা-বেক্ষন নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ উপজেলা প্রশাসনের স্থাপনা সমূহ রক্ষনা-বেক্ষনের উদ্যোগ নিয়েও তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছে বলে জানান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদদের কমান্ডার মো.আলিম উল্লা ভ’ইয়া।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এসব বধ্যভ’মি সংরক্ষনা না হওয়ার হতাশার সৃষ্টি হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে। মুক্তিযোদ্ধা মো. ফোরকান বলেন,‘কিছু মুক্তিযোদ্ধার স্বৃতি চিহ্নে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে, আর কিছু মুক্তিযোদ্ধা অবহেলার পাত্র হবে এটা কখনও মেনে নেয়ার মতো না। একজন সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বধ্যভ’মিতে পড়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংস্বকারের দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভ’ইয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে আসলে প্রশাসনের কিছু করার থাকে। তবে এর মধ্যে চন্দ্রনাথ ধামের বধ্যভ’মির স্বৃতিচিহ্ন তৈরীর উদ্যোগ গ্ররহন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাকি বধ্যভ’মির সংরক্ষনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত