টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপন উধাও

চট্টগ্রাম, ১১  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): মুখের “সৌন্দর্য” বর্ধনের প্রতিযোগিতায় পুরো বিশ্বকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়েছিল প্রসাধনী পণ্য ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনটি আর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছেনা।

শোনা যাচ্ছেনা বিজ্ঞাপনের সেই ভাষ্য-“ বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিকে হারাতে পারেনি কেউ…। এখন আমরা চ্যালেঞ্জ করছি সারা পৃথিবীকে”।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছিল “৫ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক ক্যাম্পেইন পরিচালনার পর। হঠাৎ করে বিজ্ঞাপনটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে ইউনিলিভার।

বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছিল যে, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও জাপানের বিখ্যাত সব ক্রিমকে হারিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি এখন “আনবিটেবল”। এই ক্রিম ত্বককে দ্বিগুণ ফর্সা করে বলেও দাবি করা হয় বিজ্ঞাপনে।

বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আকস্মিক বিজ্ঞাপন বন্ধ কেন প্রসাধনী পণ্য ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র? জানা গেছে, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র ওই বিজ্ঞাপনের নামে ইউনিলিভার জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করছে মর্মে অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মাহবুব কবীর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে।

গত ২০ অক্টোবর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে। শুনানির পর কিছুদিন বিজ্ঞাপনটি চললেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

মাহবুব কবীর তার অভিযোগে বলেছেন, “ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপনে দাবিকৃত তথ্যগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে জনগণ প্রতারিত হতে না পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে তার পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রচারিত তথ্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে বলা যেতে পারে”।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দিতে হলে তো আন্তর্জাতিক কোন ভাষায় দিতে হবে। যেটা সবাই বুঝবে। কিন্তু বাংলায় সেই চ্যালেঞ্জ দিলে তো কেউ বুঝবে না”।

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের কাছে ভাষাগত বিষয়টি সম্পর্কে জানতে রোববার সরকারি চিঠি যাচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “সাতদিনের মধ্যে ওই চিঠির অনুকূলে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে হবে”।

ইউনিলিভার যদি তাদের দাবিসমূহ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে বলেও জানান এই সরকারি কর্মকর্তা।

অভিযোগ নিয়ে কয়েকদফা শুনানি হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। শুনানিতে ইউনিলিভারের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে জানা যায়।

২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে মার্চ ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ‘৫ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ’ ক্যাম্পেইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এই বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞাপনটি হঠাৎ টেলিভিশনের পর্দা থেকে উধাও হয়ে গেল কেন, এই প্রশ্ন করছেন অনেকে। কিন্তু এনিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ইউনিলিভার কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির মিডিয়া শাখায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের শুনানিতে সাংবাদিকরা আইনজীবীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিল। আইনজীবীরা কথা বলেননি। এমনকি তারা নিজেদের পরিচয় দিতেও অস্বীকৃতি জানান।-ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত