টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেনে ৬ সমস্যা

মেগা প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা এখনো

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই থেকে

চট্টগ্রাম, ০৯  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  দেশের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেনে সমস্যা লেখেই রয়েছে। দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে এবং সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে চার লেনে রূপান্তরিত করা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তবে সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং, মালপত্রের স্তুপ, মহাসড়কে সিএনজির অবৈধ চলাচল, বাস-ট্রাকসহ প্রায় সব গাড়ির উল্টোপথে যাত্রা এবং যত্রতত্র খানাখন্দ এই পাঁচ কারণে মিলছে না মেগা এই প্রকল্পের সুফল। কমছে না দুর্ঘটনাও। চার লেন প্রকল্প উদ্বোধন হওয়ার দুই মাস পর এ মহাসড়কে ৫০ দুর্ঘটনায় প্রাণ ঝরেছে ২১ জনের।

সরেজমিনে সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের মিরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট বাজারে পার্কিং করা বালিভর্তি একটি ট্রাক। এর কিছু সামনেই কাঠবোঝাই করছিল আরেকটি ট্রাক। যেখানে-সেখানে পার্কিংয়ের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে এসেই গাড়ি প্রথম তার স্বাভাবিক গতিটি হারায়। সড়কের একপাশে যখন এমন অবৈধ পার্কিং তখন বিপরীত সড়কের ওপরই স্তুপ করে রাখা ইট, বালি, রড আর বাঁশের স্তুপ। আবার উল্টোপথে চলছে রিকশা-ভ্যানের পাশাপাশি ট্রাক-লরির মতো ভারী যানবাহন।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দাপট দেখা গেল নিষিদ্ধ ঘোষিত সিএনজি অটোরিকশার। সড়কমন্ত্রীর হুমকি-ধমকিকে বৃদ্ধঙ্গুলি দেখিয়েই এখানে অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে এগুলো। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার হওয়ার পাশাপাশি এখানে থাকা ছোট-বড় খানাখন্দের কারণে গাড়ি ধীরে চালাতে বাধ্য চালকরা।

সরেজমিন বড় দারোগাহাট, পন্থিচিলা জামে সমজিদের সামনে, মিরসরাই সদর, মস্তান নগর বাইপাস, মিঠাছড়া বাইপাস, বারইয়ারহাট পৌরসভা, ধুমঘাট সেতু এলাকা, ফেনীর পাঁচগাছিয়াবাজার, ফেনীর চৌমুহনী বাজারসহ মোট ২০টি স্পটে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই সুফল মিলছে না হাজার কোটি টাকা মূল্যের এই মেগা প্রকল্পের। ফলে একদিকে যেমন যাত্রা আগের মতো দীর্ঘায়িত ও বিরক্তিকর হচ্ছে; অন্যদিকে ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।

হানিফ বাস সার্ভিসের বাসচালক লিয়াকত আলী জানান, যেখানে-সেখানে পার্কিং আর ইট-বালির স্তুপের কারণে মিরসরাই উপজেলা অংশে কিছুটা যানজটের হয়। আবার সিএনজি অটোরিকশা ও খানাখন্দের কারণে ফেনীতেও আটকে থাকতে হয় অনেকক্ষণ। তিনি বলেন, ‘চার লেন হওয়ার পর আশা করছিলাম আগের ছেয়ে অনেক কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছে দেব। কিন্তু সপ্তাহের ৫ দিনই আগের মতো সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। ‘
সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, বড়দারোগাহাট, বড় কমলদহ, মিঠাছড়া এলাকায় সড়ক ঘেঁসে বালু ও ইটের স্তুপ রয়েছে। সরকারদলীয় স্থানীয় নেতারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত।

একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মহাসড়কে ট্রাফিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করায় হাজার কোটি টাকার চার লেন প্রকল্পের কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ঘটছে অনাকঙ্খিত দুর্ঘটনা। শুধু মিরসরাই উপজেলায় বড়দারোগাহাট থেকে ধুমঘাট পর্যন্ত মাত্র ৩০ কিলোমিটারে গত দুই মাসে ৪০টি ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে।’

এদিকে এই মহাসড়কে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। হাইওয়ে চট্টগ্রাম জোন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছর ২ জুলাই এই মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর বিগত দুই মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫০টি। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৪১ জন।

এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. সালেহ আহমদ পাঠান বলেন, মহাসড়কের শুধু মিরসরাই জোরারগঞ্জ অংশে ১৬ দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১১ জন। আহত হয়েছে ১০ জন পথচারী।

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘যে কোনো মেগা প্রকল্পের শুরুতেই কিছু ত্রুটি থাকে। চার লেনেও মানুষসৃষ্ট কিছু সমস্যা আছে। এগুলো চিহ্নিত করে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আশা করি শিগগির এসব সমস্যা সমাধান হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত