টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন, সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণ চাঞ্চল্য

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৭  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ইতিমধ্যে সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রার্থীরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভোটার চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে পরিষদে মতবিনিময় করছেন। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের ২নং সাধারণ ওয়ার্ডের(সীতাকুণ্ড) নির্বাচনী সীমানা সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সাথে মিরসরাই উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন সংযুক্ত হওয়ায় এই ওয়ার্ড নিয়ে দুই উপজেলার রাজনীতি এখন সরগরম।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২নং সাধারণ ওয়ার্ডে(সীতাকুণ্ড)সীমানা নির্ধারণ করা হয় সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড পৌরসভা ও মিরসরাইয়ের মায়ানি,হাইতকান্দি, শাহেরখালি ও ওয়াহেদপুর ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ। এ ১৪টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১৮৫ জন।

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন(বাবলু), সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ম ম দিলশাদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ (মন্টু)। চুড়ান্ত বাছাইয়ে মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ (মন্টু)মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এখন তিন প্রার্থী সদস্য পদের জন্য প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবেন।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটার হবেন প্রত্যেক উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও সবকটি ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা।

জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীতাকুণ্ড সাধারণ ওয়ার্ড-২ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সীতাকুণ্ডে ভোটারদের মধ্যে চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মতো মাঠে-ঘাটে, চায়ের দোকানে কথার ঝড় না উঠলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সাধারণ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় একক সমর্থন পেতে উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে চালাচ্ছেন তদবির। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচনের জন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে।

১৪টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৪২ জন ও মহিলা ভোটার ৪৩ জন। যদিও এই নির্বাচনে সাধারণ জনগণ সবার ভোট দেওয়ার কোন সুযোগ নেই, শুধুমাত্র নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরাই ভোটার তবুও নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে সবার মাঝে।

সাধারণ ওয়ার্ড(সীতাকুণ্ড) সদস্য পদে প্রার্থী আ ম ম দিলশাদ বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। আওয়ামী লীগের সংকটকালীন মুহূর্তেও দলের নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে জেলা পরিষদের সদস্য পদে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ে তুলব। তিনি ছাত্রজীবনে নিজামপুর ডিগ্রি কলেজের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়ী এই নেতা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

অপর প্রার্থী মহিউদ্দিন বাবলু বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতি করে আসছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমকে এলাকার উন্নয়নে তিনি ভুমিকা পালন করছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামীলীগের দুইবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত অপর প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করব। বর্তমানে তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত