টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মুফতি হান্নানের ফাঁসি বহাল

imageচট্টগ্রাম, ০৭  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ দুইজনের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে রায় ঘোষণা জন্য বুধবার দিন ঠিক করে দেয় আপিল বিভাগ। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল সিলেটের একটি আদালত।

হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করে। গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। ঘটনার দিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর পর সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। অন্যদিকে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।

নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর গত ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শেষ হয়।

মতামত