টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়ির আলোচিত শিক্ষক হত্যাকান্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

bচট্টগ্রাম, ০৬  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): মানিকছড়ির আলোচিত শিক্ষক চিংসামং চৌধুরীর হত্যাকান্ড ছিল ‘টক অব দ্যা হিল-২০১৪’। গতকাল ৬ ডিসেম্বর এ হত্যাকান্ডের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে উপজেলায় পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচী। আর এ কর্মসূচীতে সমবেত পাহাড়ী-বাঙ্গালী, ছাত্র-শিক্ষক ও সূধীজনরা হত্যাকান্ডে জড়িত ও চার্জশীট ভুক্ত আসামীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, উপজেলার কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতা চিংসামং চৌধুরীতে ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গতকাল ৬ ডিসেম্বর ছিল হত্যাকান্ডের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নিহত চিংসামং চৌধুরীর হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে পালিত হয় নানা কর্মসূচী। সকাল সাড়ে ৮টায় নিহতের স্মৃতিস্তম্বে পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু হয়। পরে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সূধীজনদের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্টিত হয় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপজেলার ২৩১ নং কালাপানি মৌজার হেডম্যান ও মানিকছড়ি উপজেলা হেডম্যান এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রিপ্রুচাই চৌধুরীর একমাত্র পুত্র চিংসামং চৌধুরী স্কুল ও কলেজ জীবন শেষে ১৯৯৫ সালে “কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়”প্রতিষ্ঠা করেন। আজ সেখানে শত শত ছেলে-মেয়েরা জ্ঞান অর্জন করছে। কিন্তু সেই মানুষ গড়ার কারিগড় চিংসামং চৌধুরী বেঁচে নেই! অকালে নির্মমভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। কিন্তু ওই হত্যাকান্ডে জড়িতরা এখনো ধরা পড়েনি। যদিও পুলিশ ইতোমধ্যে আসামীদের অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশীট প্রদান করেছেন। সন্ত্রাসীরা পার্বত্য জনপদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ এ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে একটাই দাবী বিচারাধীন এ মামলার আসামীরা যেন সর্বোচ্চ শান্তি পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহব্বান। কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান এর উপস্থাপনায় এবং প্রধান(ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা সভাপতিত্বে এক মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পাবর্ত্য জেলা পরিষদ সদস্য এম.এ জব্বার,উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মারমা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এ রাজ্জাক,ইউপি চেয়ারম্যান মো.শফিকুর রহমান ফারুক, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.মাঈন উদ্দিন, মারমা উন্নয়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংজপ্রু মারমা, ইপজাতি নেতা লাব্রেঅং মারমা, শিক্ষক রমিজ মিয়া, আব্রে মারমা, মো. মনির হোসেন, কাবার্রী এসোসিয়েশন নেতা ক্যজাই কার্বারী, মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাথোয়াইপ্রু মারমা, কার্বারী এসোসিয়েশন সাবেক সভাপতি উদ্রাসাই মারমা ও মারমা সংসদে সাংঠনিক সম্পাদক উসাপ্রু মারমা।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় (সোয়া ৭টা) কাজকর্ম শেষে বন্ধুদের নিয়ে উপজেলা সদরস্থ রাজপাড়া (বাজার) এলাকায় তৎকালীন জেএসএস নেতা জাপান বাবু’র বাসায় আড্ডারত অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে এলোপাতারী ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এ সময় গুরুত্বর আহত হয় জেএসএস নেতা জাপান বাবু। পরে তিনিও চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন পাহাড়ী-বাঙ্গালী, ছাত্র-যুবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা রাস্তা অবরোধসহ পালন করেন নানা কর্মসূচী এবং জেএসএস নেতা ধীমান চাকমা ১০ জনকে আসামী করে মানিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২, তারিখঃ- ৭.১২.১৪ খ্রি. পওে পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩১ অক্টোবর-২০১৫ সালে এ মামলার আসামীদেরকে অভিযুক্ত চার্জশীট প্রদান করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব জানান, পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে।
আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি

মতামত