টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ক্রিসেন্ট কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

mirsarai-ctg-bankphotoচট্টগ্রাম, ০৫  ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ক্রিসেন্ট কো-অপারেটিভ ব্যাংক (সিসিবিএল) নামে অনুমোদন বিহীন একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা বন্ধ করা হয়েছে। কোন প্রকার ঘোষনা ছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ করায় প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে ফিরে আসছে। এছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পালিয়ে গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার শান্তিরহাট রোড়ে ক্রিসেন্ট কো-অপরারেটিভ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। অধিক মুনাফা ও ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে শত শত গ্রাহক থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। প্রসপেকটরে চট্টগ্রামে তাদের ৭টি শাখা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ২৪ নভেম্বর থেকে হঠাৎ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক রতন অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। ফলে ব্যাংকের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। তাই গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে এসে ফিরে যাচ্ছে। এতে করে টাকা পাবেন কি পাবেনা এ নিয়ে হতাশায় রয়েছেন ব্যাংকের ৯৯৮ জন গ্রাহক।

আরো জানা গেছে, গত দুই বছর আগে মিরসরাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন ব্যাংকটি সিলগালা করে দেন। পরে আবারো ব্যাংকটি চালু করা হয়।

ব্যাংকের গ্রাহক ছাগলনাইয়া উপজেলার হারেজ আহম্মদের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, তার কাছ থেকে অধিক লাভ দেয়া প্রতিশ্রæতি দিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা নেয়। কিন্তু এখন টাকা উত্তোলন করতে এসে দেখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নেই। কখন টাকা ফেরত দেবেন তাই সঠিক ভাবে জানতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের গ্রাহক নারায়ন কান্তি দের বড় বোন জানান, তার ভাই দেশের বাইরে থাকেন। কিন্তু বিদেশ যাওয়া আগে ক্রিসেন্ট কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বারইয়ারহাট শাখায় ২লাখ ৫০ হাজার টাকা এফডিআর করেন। এছাড়া প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে তার ৪টি ডিপিএস রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকটি বন্ধ দেখতে পান।

ক্রিসেন্ট কো-অপরাটেভ ব্যাংকের হিসাব রক্ষক আকলিমা আক্তার কলি জানান, শাখা ব্যবস্থাপক চলে যাওয়ায় গত ২৪ নভেম্বর থেকে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। তিনি একাধিক বার উধ্বর্তন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে কোন সুফল পাননি। ব্যাংক খুললে গ্রাহকরা এসে ভীড় করে তাই তিনি অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকে তার আত্মীয়ের সাড়ে ৪ লাখ টাকা রয়েছে। সেই টাকা পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ক্রিসেন্ট কো-অপরারেটিভ ব্যাংকের বারইয়ারহাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক রতনের ( ০১৮১৫-৮২০৯৩৯) ব্যক্তিগত মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি।

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. সেকান্তর মোল্লা জানান, ব্যাংক বন্ধের বিষয়ে জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের ভীড় করে। তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। তবে কোন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেনা।

এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দিপক দাশ বলেন, ক্রিসেন্ট কো-অপারেটিভ ব্যাংক নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আমাদের কাছে নেই। তারা অবৈধভাবে লেনদেন করছেন। তবে কোন গ্রাহক এ বিষয়ে আমাদের অভিযোগ দেয়নি।

মতামত