টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বর্ধিত সমুদ্রসীমায় বিমান চলাচলের ফি পাচ্ছে না বাংলাদেশ!

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

bimanচট্টগ্রাম, ০১ ডিসেম্বর  ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  বাংলাদেশে বর্ধিত সমূদ্রসীমায় বিমান চলাচলের নেভিগেশন ফি হাতিয়ে নিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ গুলো। এ সীমায় বিমান চলাচল স্ক্যানিং করতে না পারায় বিপুল অঙ্কের নেভিগেশন ফি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। রাডার সিস্টেমে ধরা না পরায় বিমান চলাচল স্ক্যানিং করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দও কর্তৃপক্ষ।

বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক নূর খান জানান, বাংলাদেশের আকাশ সীমায় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বসানো রাডার সিস্টেম থেকে। যার আওতায় বর্ধিত সমূদ্র সীমা ছিল না। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ যে বর্ধিত সমূদ্রসীমা পেয়েছে তা এই রাডার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) উইং কমান্ডার জিয়া উল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার সিস্টেম দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় এটি দিয়ে সব এয়ারলাইন্সের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন সমুদ্রসীমায় কোনো এয়ারক্রাফট এলেও এ রাডার সেটা ধরতে পারছে না। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে পিপিপির (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) আওতায় রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এর আওতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভার্চুয়াল রাডার (এডিএসবি এক্সচেঞ্জ বা অটোমেটিক ডিপেন্ডেন্ট সারভাইলেন্স) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, বর্ধিত সমূদ্রসীমা ছাড়াও দেশের বর্তমান আকাশসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া অনেক উড়েজাহাজের অবস্থানও ধরতে পারছে না বিদ্যমান রাডার সিস্টেম। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রাডার ব্যবস্থায় বিকেল তিনটার পর কক্সবাজার সীমানায় এয়ারক্রাফট দেখা যায় না। রাডারে স্ক্যান করতে না পারায় এসব এয়ারক্রাফটের নেভিগেশন ফি চলে যাচ্ছে ভারত আর মিয়ানমার সরকারের কোষাগারে।

সূত্রমতে, বর্তমানে শুধু ওভারফ্লাইং খাত থেকে বছরে ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা আয় করছে সরকার। নতুন সমুদ্রসীমা স্ক্যানিং এর আওতায় আসলে শুধু এ খাতের আয় বেড়ে দাঁড়াবে আড়াই হাজার কোটি টাকায়। যা অনুধাবন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার প্রতিস্থাপনসহ নানা কাজের একটি ধারণাপত্র তৈরির নির্দেশনাও দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সূত্র জানায়, নতুন রাডার প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত ফাইল শিগগির ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে। নতুন রাডার প্রতিস্থাপন করলে নতুন সমুদ্রসীমার উপর দিয়ে যে কোনো এয়ারক্রাফট প্রবেশ করলেই বাংলাদেশ তার ওপর চার্জ আরোপ করতে পারবে। এতে সিভিল এভিয়েশনের আয় আরও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়বে।

প্রসঙ্গত, শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৯৮৪ সালে ফ্রান্স সরকারের অনুদানে প্রাইমারি রাডার এবং ১৯৮৬ সালে সেকেন্ডারি রাডার (দশ বছর আয়ুষ্কাল স¤পন্ন) স্থাপন করা হয়। ১৯৮৭ সালে ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং ১৯৯৪ সালে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা ও ২০০৮ সালে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্তমান রাডারটি আপগ্রেড করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান রাডার ব্যবস্থাটি এখন আর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

চট্টগ্রামে ভার্চুয়াল রাডার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে বলে নিশ্চিত করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক নূর খান বলেন, ইতোমধ্যে নতুন রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কানাডার রেথিয়নের থেকে প্রকল্পের জন্য দর প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। আগামী ১০ বছর পর্যন্ত সরকার তাদের এ টাকা পরিশোধ করবে। এসময়ে তারা রাডার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

এদিকে প্রকল্পের প্রস্তাবিত দর যাচাই বাছাইয়ের জন্য চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আর্ন্তজাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) থেকে নিকস কামভাইসিস নামে একজন টিসিবি (টেকনিক্যাল কো-ওপারেশন ব্যুরো) বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। প্রকল্পটির দর প্রস্তাব যাচাই বাছাইও করেছেন তিনি।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের সঙ্গে শাহ আমানত বিমানবন্দরে একটি ভার্চুয়াল রাডার স্টেশন (অটোমেটিক ডিপেন্ডেন্ট সারভাইলেন্স) প্রকল্প যোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান অংশের পাশাপাশি ভারত থেকে অর্জিত ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ইকুইপমেন্ট সংযোজনের কথাও যোগ করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত