টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বেসরকারি পলিটেকনিক গুলোতে শিক্ষাবাণিজ্য

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি ডটকম

eduচট্টগ্রাম, ২৯  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মহানগরে ডিপ্লোমা শিক্ষার আড়ালে চলছে রমরমা শিক্ষা বাণিজ্য। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে নগরীতে যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি ডিপ্লোমা পলিটেকনিক কলেজ। কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংকটকে পুঁজি করে বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার নামে বাণিজ্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে নিজস্ব ভবন থাকা বাধ্যতামূলক হলেও নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ১১টি পলিটেকনিকের মধ্যে একটিরও কোনো নিজস্ব ভবন নেই। ভাড়া বাসায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভাগ ভেদে নেয়া হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে মালিকরা ইচ্ছামতো পরিচালনা করছে পলিটেকনিকগুলো। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ থেকে।

পলিটেকনিকগুলো হচ্ছে চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি), শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, ইমপেক কলেজ অব টেকনোলজি, প্রগ্রেসিভ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, কন্টিনেন্টাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, ডেপুটিন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ, মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ, নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, ইসলামী ব্যাংক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি।

এসব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মধ্যে একেকটির ভর্তি ফি ও সেমিস্টার ফি একেক রকম। বিভাগভেদে নেয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া পরীক্ষার ফি, পুনঃভর্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি বোর্ডের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা পলিটেকনিকগুলোর সরকারি অনুমোদন পাওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্টরা। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পর্যাপ্ত ব্যবহারিক ক্লাসের সরঞ্জামাদি নেই এসব প্রতিষ্ঠানে।

ফলে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে কোর্স শেষ করার পরও তেমন কিছু শিখতে না পেরে কর্মজীবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠছে না তারা। দক্ষ শিক্ষক এবং উপযুক্ত ল্যাব সুবিধার অভাবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়েও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, গড়ে ওঠা এসব ইন্সটিটিউট শিক্ষার নামে প্রতারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে এসব প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের কারণে সরকারের কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি কার্যক্রম ব্যর্থ হচ্ছে।

অনেকের মতে, বেসরকারি অধিকাংশ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের লেখাপড়ার মান এত খারাপ যে, চার বছর শেষে শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সার্টিফিকেট ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে এসব ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দেয়া শর্তগুলো কোনো প্রতিষ্ঠানও মানছে না। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই মানসম্মত অভিজ্ঞ শিক্ষক।

বিষয়টি অস্বীকার করে বাংলাদেশ বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ স¤পাদক ও চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজের (সিটিসি) অধ্যক্ষ কে এম মূছা বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান সিটিসিতে যেসব ব্যবহারিক ক্লাসের সরঞ্জাম রয়েছে তা দেশের আর কোনো বেসরকারি পলিটেকনিকে নেই। দেশে-বিদেশে কারিগরি শিক্ষার কদর বেড়েছে। সরকারি পলিটেকনিকে সামান্য আসন রয়েছে। বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিরও নিজস্ব ভবন নেই। সবগুলো ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যগুলোতে মানসম্মত শিক্ষক ও পর্যাপ্ত ল্যাব সরঞ্জামাদি নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি) ২য় বর্ষের ছাত্র নজরুল ইসলাম জানান, সিটিসিতে পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষার ব্যবহারিক ক্লাসের সরঞ্জামাদি নেই। অনেক বিষয় আছে ১০ শতাংশও ব্যবহারিক ক্লাস হয় না। ওই ছাত্রের অভিযোগ, এখানে কোনো শিক্ষার্থী যদি ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে তার কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। একইভাবে শিক্ষার্থীর তুলনায় এখানে পর্যাপ্ত শিক্ষকের সংকট রয়েছে বলেও তার দাবি।

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামের ১১টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অত্যন্ত খারাপ। এসব প্রতিষ্ঠানে নেই নিজস্ব ভবনসহ ব্যবহারিক ক্লাসের পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে অনুমোদন পাওয়ার যোগ্যতাও রাখে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়াত তাহলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হতো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত