টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সুন্নিয়তের খাদেম ছিলেন আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

jচট্টগ্রাম, ২৭ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতীব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী নবী প্রেমি ও সুন্নিয়তের খাদেম ছিলেন। কোরআন-সুন্নাহ কায়েমে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক।

জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের সহকারী অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ আজ রোববার বিকেলে এসব কথা বলেন। সিটিজি টাইমসের কাছে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরীর বর্ণাঢ্য জীবন চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, জালাল উদ্দিন আল কাদেরী ১৯৫৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া থানার চরখানাই গ্রামে আলহাজ্ব ওলী আহমদ চৌধুরী ও আলহাজ্বা সুফিয়া খাতুনের ঘর আলোকিত করে দুনিয়ায় আসেন।

তিনি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় এবতেদায়ী থেকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল, আলিম, ফাজিল পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে স্কলারশীপ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।

১৯৭১ সালে সরশিনা দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে ফিকাহ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ওই সময় তিনি সরশিনা মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু হযরতুল আল্লামা তৈয়্যব শাহ (র:) হুজুরের নির্দেশে তিনি সেখানে চাকরি না করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে তিনি জামেয়ার অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। সেই থেকে আমৃত্যু অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।

১৯৮৭ সালে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রথম জুমা‘হর নামাজ আদায় করেন আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী। সেই থেকে তিনি অদ্যাবধি খতিব হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সুন্নি আকিদার প্রকাশনা ‘মাসিক তরজুমান’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের গভর্ণর হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন তিনি। এর আগেও ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন থাকাকালে আরও একবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ ও ২০০৪ সালে তিনি দেশের সেরা অধ্যক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়াও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়া দশদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ খতিব কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আমেরিকায় আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের প্রতিষ্ঠানা সভাপতি তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ২৬ শে সফর ১৪৩৮ হিজরি রোজ শনিবার দিবাগত রাত ১০ টা ১৩ মিনিটে ঢাকায় বারডেম হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল­াহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে দুই ছেলে পাঁচ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ভক্ত রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে আবু সাইয়্যিদ মো. আবুল কাসেম একজন ব্যারিস্টার। ছোট ছেলে ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছেন।

আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সাধারণ স¤পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে মহান এই আলেম রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত আলা হযরত কনফারেন্সে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তাকে দ্রæত বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, আজ রোববার তার প্রথম নামাজে জানাজা ঢাকাস্থ কাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আছর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সোমবার বাদ জোহর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় সমজিদ প্রাঙ্গনে তৃতীয় জানাজা এবং একই দিন বাদ আছর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে ৪র্থ জানাজা শেষে তাকে সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরাস্থানে দাফন করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত