টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জাহাজভাঙ্গা শিল্পে ৯ বছরে নিহত ১৬১ শ্রমিক

jahaচট্টগ্রাম, ২৬ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: জাহাজভাঙ্গা শিল্পে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় গত ৯ বছরে ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত শ্রমিকের সংখ্যা দুই শতাধিক। ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত গবেষণায় প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি)।

আজ শনিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলেনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

ওশির নির্বাহী পরিচালক আমিনুর রশিদ চৌধুরী রিপন বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজভাঙ্গা শিল্প এলাকা চট্টগ্রামে। ওই এলাকায় প্রায় ১০০ ইয়ার্ডে ২২ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে যুক্ত আছেন আরও ১০ হাজার শ্রমিক। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিচিং পদ্ধতিতে জাহাজ কাটতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন ওই শ্রমিকরা।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে ঝুঁকিপূর্ণ বিচিং পদ্ধতিতে জাহাজভাঙ্গা নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে এটা চালু রয়েছে; শ্রমিকদের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া ইয়ার্ডগুলোতে ক্ষতিকর অ্যাসবেসটসের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকিতেও পড়ছেন এ শিল্পের শ্রমিকরা। কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম বিধির শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ কোনো কিছুই এ শিল্প মানা হচ্ছে না।

জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ডে শ্রমিকদের হতাহতের কারণে হিসেবে অন্ধকারে কাজ করা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের অনীহা, শ্রম আইন ও বিধিমালার অপর্যাপ্ত প্রয়োগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অপর্যাপ্ত পরিদর্শন ব্যবস্থা এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার অভাবকে দায়ী করেছে ওশি।

জাহাজভাঙ্গা শিল্প এলাকায় কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ওশির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রম বিধি ২০১৫ অনুযায়ী প্রতিটি ইয়ার্ডে নিরাপত্তা কমিটি গঠনে জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া রাতের বেলায় কাজ করা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পরিধান না করলে জাহাজকাটার কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত, মালিকপক্ষের উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পোশিক্ষণ দেওয়া, সরকারের উদ্যোগে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে ইয়ার্ডগুলোতে স্থায়ী পরিদর্শক নিযুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের দাবি জানায় সংগঠনটি।

ওশির ভাইস চেয়ারপার্সন ড.এস.এম. মোর্শেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মাস্টার, ওশির গণমাধ্যম কর্মকর্তা আব্দুর রাশিদ, আহত শ্রমিক মো.ইদ্রিস প্রমুখ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত