টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে হাত-পা বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

হত্যাকান্ডে অংশ নিল পিতা-পুত্র !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchariচট্টগ্রাম, ২৫ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়িতে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূঁইয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাটিয়েছে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। জমির বিরুধে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. আবুল কালাম(৩৩)। তিনি ওই এলাকার মৃত শামসুল আলমের কনিষ্ট পুত্র। পেশায় তিনি কৃষক।

নিহতের ভাই আবু সৈয়দ বলেন, গত চার দিন পূর্বে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে আমার ভাইয়ের সাথে পাশ্ববর্তী বাড়ির আমাদের বর্গা চাষী ইউসুফ ও তার সন্তানদের সাথে বাগ-বিতন্ডা এবং মারধরের ঘটনা ঘটে । তার জের ধরে আজ সকালে পরিবারের সবাই যখন ঘুমন্ত অবস্থায় তখন ইউসুফ তার ছেলে মোরশেদ, ইসমাইল, রুবেল মিলে ঘর থেকে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে প্রায় এক কি.মিটার দূরে তাদের কবাড়ির পার্শ্বে একটি পুকুর পাড়ে তার হাত পা বেঁধে লোহার রড়, লাঠি-শোটা এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম পিঠিয়ে আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তার হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পাই।’

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা য়ায়, এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হত্যাকারীরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। শোকে পাথর পরিবারের লোকজন কান্নাকাটি করছেন। অনেকেই তাদের শান্তনা দিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা পিতা-পুত্র বেধম পিটুনি থেকে আবুল কালামকে রক্ষা করতে গিয়ে আরো কয়েকজন তাদের পিটুনির শিকার হয়। ভয়ে দূর থেকে লোকজন এ হত্যাকান্ড দেখলেও তকে বাঁচাতে কাছে যেতে পারেনি।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম সামদানী বলেন, ‘লাশের শরীরে একাধিক রক্তের জখম এবং কাঁটা ছেড়ার আঘাত রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তাঁকে প্রকাশ্যে পিতা-পুত্র মিলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এটি একটি নির্মম হত্যাকান্ড।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘ঘটনায় নিহতের ভাই আবু সৈয়দ বাদি হয়ে ইউসুফ, তাঁর ৩ ছেলেসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদরে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত