টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

bgচট্টগ্রাম, ২৫ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): টেকনাফে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে সন্ত্রাসী, চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে সেজন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবুও দালালদের মাধ্যমে কিছু কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। এটা অসম্ভব কিছু নয়। মিয়ানমারের সাথে টেকনাফের ৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত অত্যন্ত কঠিন হলেও অন্যান্য বারের চেয়ে অনুপ্রবেশ কম হয়েছে। দীর্ঘ সীমান্তে দালালরা নতুন নতুন পথ সৃষ্টি করেছে। তারা গোপনে ঢুকে বনে ও আত্মীয়ের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। তাদের চেহারার সাথে দেশীয়দের আকৃতি একই হওয়ায় চিহ্নীত করা মুশকিল। তবে এদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে সৃষ্ট পথে টহল জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি’র পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা চেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র কারো শত্রু নয় বরং মিত্র। মিয়ানমারের সাথে আমাদের সূসম্পর্ক রয়েছে। উভয়দেশের মধ্যে রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। উক্ত আস্থার প্রতি সম্মান পূর্বক ইতিপূর্বে মিয়ানমারের আটক দুইজনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাছাড়া সীমান্তে উভয়দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের বিজিপি কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ওপার থেকে যাতে বাংলাদেশে কেউ আসতে না পারে বিজিপি সে পদক্ষেপ নিবে বলেও আশা করছেন । সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিজিবি ডিজি আরো বলেন, মিয়ানামারে বর্ডারে কাটাতারের বেড়া, রাস্তা সব আছে। কিন্তু আমাদের এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই নিচ্ছিদ্র সীমান্ত ব্যবস্থানা তৈরী করা যায় নি। এরই মধ্যে কিভাবে সীমান্ত সুরক্ষা করা যায় সে নিদের্শনা বিজিবি সদস্যদের দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের উত্তরে ডিজি আরো বলেন, দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের তথ্য সঠিক নয়। বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে দালালদের সহায়তায় অনুপ্রবেশ ঘটলেও তা নগন্য। ইতিমধ্যে অনেক রোহিঙ্গাকে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সংখ্যা কত জানা নেই। অতীতের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বিজিবি জওয়ানরা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পেরেছে।

সীমান্ত প্রহরায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

২৫ নভেম্বর শুক্রবার বেলা ১২ টায় স্থলবন্দর সংলগ্ন মালঞ্চ সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান, লেঃ কর্ণেল মোঃ আবুজার আল জাহিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম প্রমূখ। এর আগে তিনি টেকনাফের ২ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন বিওপি পরিদর্শন করেন।

এদিকে ২৫ নভেম্বর শুক্রবার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ২৭ জন রোহিঙ্গা আটকের পর স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের আরকান রাজ্যের মংডুর বিজিপি ক্যাম্পে দূর্বৃত্ত¡রা হামলা চালায়। এরপর থেকে মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালূঘুদের উপর নির্যাতন, হত্যা, ঘরবাড়ীতে আগুন, মহিলাদের ধর্ষন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অত্যাচার থেকে নিজেদের বাঁচাতে দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে মুসলিম রোহিঙ্গারা। ইতিমধ্যে দালালদের সহায়তায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত