টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ফিরিয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা হচ্ছে’

bg কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ২৫ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আটক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সময় সদয় আচরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। তিনি বলেন, যেসব রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদেরকে খাদ্য, পানীয়, ওষুধসহ নানা সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি প্রধান এই কথা বলেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারির মধ্যেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে বলে স্বীকার করেন বিজিবি মহাপরিচালক। বলেন, ৬৩ কিলোমিটার জলপথ আর ২৭১ কিলোমিটার স্থলপথ সিলগালা করা সম্ভব নয়।

বিজিবি প্রধান বলেন, ‘যেসব এলাকায় টহল জোরদার করা যায়নি, সেসব এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

গত মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নয় জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি, ছয় শতাধিক মানুষকে আটকের পাশাপাশি এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এই পরিস্থিতিতে প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গারা হাজারে হাজারে বাংলাদেশে ঢুকার চেষ্টা করছে।

কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে। নিবন্ধনহীন আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশ বারবার তাগাদা দিলেও তাদেরকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না মিয়ানমার।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে শরণার্থী প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য সীমান্তে বিজিবির নজরদারি করার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গাবাহী বেশ কিছু নৌকা ফিরিয়ে দেওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। তবে নজরদারির মধ্যেও রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়নি বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি প্রধান বলেন, সীমান্তের দুই পারেই কিছু দালাল রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় কিছু অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে।

বিজিবি মহাপরিচালক দুই দিন আগে কক্সবাজার আসেন। বৃহস্পতিবার স্থল সীমান্ত ও শুক্রবার স্পিড বোটে শাহপরীরদ্বীপসহ নানা সীমান্ত পরিদর্শন করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও তার সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক জানান, যেসব এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে টহল বাড়িয়েছেন তারা।

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলাকারীরা বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন বলে সে দেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিজিবি প্রধান বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে থেকে বিদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ নেই। এই খবরের বিষয়ে বিজিবি মিয়ানমারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা গুলিবিদ্ধ দুই জনকে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, সড়ক ও টাওয়ার স্থাপনের চিন্তা রয়েছে। তবে এটি দ্রুততম সময়ে হওয়া সম্ভব না।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরিদ হাসান, কক্সবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান, টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত