টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম, ২৩  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে কিছু ক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর সার্বিকভাবে এমডিজি অর্জনের সব সূচকেই বাংলাদেশ সফল হয়েছে বাংলাদেশ।

‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস : অ্যান্ড-পিরিয়ড স্টকটেকিং অ্যান্ড ফাইনাল ইভালুয়েশন রিপোর্ট (২০০০-২০১৫)’ শীর্ষক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ সব চিত্র উঠে আসে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

এমডিজির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমডিজির ৮টি লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত ২১টি টার্গেটের মধ্যে ১৩টি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করেছে। বনায়ন ছাড়া বাকি টার্গেট অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

এরমধ্যে এমডিজির আওতায় ১৫ বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দারিদ্র্যের হার ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে নামিয়ে আনার টার্গেট ছিল। ২০১৫ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে।

একইভাবে দারিদ্র্যের আনুপাতিক হার ১৭ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে এ হার দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কম ওজনের ৫ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা ৬৬ শতাংশ থেকে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এমডিজিতে এই টার্গেট ছিল ৩৩ শতাংশ। সুষম খাদ্য গ্রহণের হার বৃদ্ধির টার্গেট পূরণের কাছাকাছি ছিল বাংলাদেশ।

দুই নম্বর লক্ষ্যের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের শতভাগ ভর্তির লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ২০১৫ সালের হিসাবে প্রাথমিকে শিশু ভর্তির হার ছিল ৯৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তান, ভূটান ও আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। এমডিজিতে স্বাক্ষরতার টার্গেট ছিল শতভাগ। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ২০১৫ সালে ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো।

নারীর ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতা অর্জনের তিন নম্বর লক্ষ্যের ক্ষেত্রেও সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত হয়েছে। এমনকি উভয়ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি। মাধ্যমিক পর্যায়ে লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার টার্গেট এখনও পূরণ হয়নি। উচ্চ শিক্ষায় বর্তমানে ছেলে-মেয়ের অনুপাত ১ : ০.৬৫। কৃষি বাদে অন্যান্য খাতে নারীর মজুরি হারের ক্ষেত্রে এমডিজিতে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের চেয়ে ভালো

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এক নম্বর লক্ষ্যের অধীন টার্গেটগুলোর মধ্যে দারিদ্রের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা, দারিদ্রের আনুপাতিক হার, কম ওজনের ৫ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা কমানোর টার্গেট বাংলাদেশ পূরণ করতে পেরেছে।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৃথিবীর কম দেশই আছে যারা লক্ষ্যমাত্রার আগেই অনেক টার্গেট পূরণ করতে পেরেছে; এক্ষেত্রে আমরা সফল। এসডিজিতেও সফল হতে পারবো আমরা। চ্যালেঞ্জ থাকলেও এটি সম্ভব। জিএসপি সুবিধা না থাকলেও মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেশি হচ্ছে। তৈরি পোশাক থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হবে।

ড. মসিউর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে হবে এবং তা বিনিয়োগে আনতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ইনফরমাল খাতে প্রচুর কর্মকাণ্ড হচ্ছে যেগুলো জিডিপির হিসাবে আসছে না। এই হিসাব আসলে প্রবৃদ্ধি হয়তো ৮ শতাংশের কাছাকাছি যেত।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, এমডিজির বেশিরভাগ সূচকে আমরা ভালো করেছি। কয়েকটিতে এখনও অর্জন করা যায়নি তবে আমরা সঠিক পথেই আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের যে রূপকল্প ঠিক করেছেন, তাতে আমাদের পথ হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ভারত এবং চীন বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে এজন্য বাংলাদেশকে অবশ্যই তাদের প্রয়োজন হবে। এ সুযোগকে কাজে লাগাবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, জাতিসংঘের রিপ্রেজেনটেটিভ সুদীপ্ত মুখার্জি প্রমুখ।

এ সময় ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস: অ্যান্ড-পিরিয়ড স্টকটেকিং অ্যান্ড ফাইনাল ইভালুয়েশন রিপোর্ট (২০০০-২০১৫)’ শীর্ষক চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত