টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাফ নদীতে ভাসছে অসহায় রোহিঙ্গারা

rahiচট্টগ্রাম, ২৩  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে কড়াকড়ি অব্যাহত রয়েছে৷ তারপরও রোহিঙ্গারা নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের টেকনাফে প্রবেশের চেষ্টা করছে৷ ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টার সময় সোমবার রাতে প্রায় ২০টি নৌকাভর্তি রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি। টেকনাফ থেকে বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নাফ নদী সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ছয়টি পয়েন্টের প্রতিটিতে দুই থেকে তিনটি নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যা তাদের জওয়ানরা প্রতিহত করেছেন। নৌকার আরোহীরা পরে মিয়ানমারে ফেরত গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ সীমান্তের অধিবাসীরা জানান, প্রায় প্রতিদিনই নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে৷ বিজিবি তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে৷ তাদের কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছে৷ কেউ কেউ আবার স্থানীয়দের সহায়তায় আশাপাশের গ্রামে আশ্রয় নিচ্ছে৷ রাতেও কিছু রোহিঙ্গা দালালদের সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে৷ তারা স্থানীয়দের আশ্রয়ে পরিচয় গোপন করে থাকছেন৷

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত কয়েক দফায় আশ্রয় নিতে আসা পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি৷ তবে নানাভাবে দেড় হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে মিয়ানমারে মংডু জেলার তিনটি গ্রামের ৪৩০টি ভবন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ আর ২১ নভেম্বর স্যাটেলাইট থেকে তোলা আরেও কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে জানায়, ১০ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সহিংসতায় নতুন করে মংডু জেলার পাঁচটি গ্রামে ৮২০টি ঘর-বাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব মতে, সবমিলে এক মাসে ধ্বংস হওয়া ঘর বাড়ির সংখ্যা ১২৫০৷

জাতিসংঘের হিসেবে চলমান সহিংসতায় ৮৬ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন৷ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ৩০ হাজার মানুষ৷

এর আগে ২০১২ সালে উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের তাণ্ডবে প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা মারা যায়৷ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় এক লাখেরও বেশি মানুষ৷

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত