টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাগরে আনোয়ারা-কুতুবদিয়া হানাহানি, বোট চলাচল বন্ধ

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

karচট্টগ্রাম, ২৩  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বঙ্গোপসাগরে আনোয়ারা-কুতুবদিয়ার হানাহানির জের ধরে মাছ ধরার ট্রলারসহ সকল প্রকার বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারে সাগরে ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলার দুই মৎস্য শিকারী গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

একইভাবে সাগরে মাছ ধরার সময় কুতুবদিয়া উপজেলার ৭টি ফিশিং ট্রলার ৬০ মৎস্য শিকারীসহ আনোয়ারা উপজেলার মৎস্যজীবিরা আটক করে রেখেছে। এ নিয়ে তুমুল উত্তেজনা চলছে এই দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জনপ্রশাসনও।

কুতুবদিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মার্কেটে বৈঠকে বসার কথা। কিন্তু কুতুবদিয়ার লোকজন আসতে না পারায় বৈঠক হয়নি। ফলে সমস্যাটি রয়ে গেছে।

তিনি জানান, ফিশিং ট্রলার ছিনতাই ও ডাকাতের গুলিতে নিহতদের কেন্দ্র করে আনোয়ারা ও কুতুবদিয়ার মধ্যে বিরোধ চরমে রয়েছে। আনোয়ারা ও গহিরার লোকজন কুতুবদিয়ার ৭টি ফিশিং ট্রলার এখনো আটক করে রাখায় সমস্যাটির তেমন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হলে আনোয়ারা উপক‚লীয় এলাকার রায়পুর ইউনিয়নের লোকজন সাগরে মাছ ধরতে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমানের পুত্র আরকান (৩০) ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়। এর কিছুদিন পরে পরুয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত ছালেহ আহমদের পুত্র মো. সেলিম উদ্দিন (৩২) সাগরে গুলিতে নিহত হন।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও আব্দুন নুরের আব্দুল মালেক শাহ নামের বোটটি সাগরে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুরা অস্ত্রের মুখে বোটটি ছিনিয়ে নেয়। পরে জলদস্যুরা বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে বোট ফেরত দেয়ার কথা দেয়। তাদের কথা মত টাকা বিকাশে দিয়ে বোটের জন্য কুতুবদিয়া গেলে বোটটি জ্বালিয়ে দেয় জলদস্যুরা। এ ঘটনায় আনোয়ারার সর্বমহলে তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে গত বুধবার আনোয়ারা-বাঁশখালী উপক‚লীয় মৎস্যজীবী ও আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্র উপক‚লীয় চিহ্নিত জলদস্যুদের কবল থেকে নিরীহ মৎস্যজীবীদের রক্ষায় আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈর মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়।

গত শনিবার সকাল থেকে আনোয়ারার রায়পুর ও গহিরা এলাকার জনগণ উত্তেজিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে সাগরে ট্রলার নিয়ে গিয়ে কুতুবদিয়ার ৭টি ফিশিং ট্রলার ধরে নিয়ে আসে। পূর্ব গহিরার ফকিরহাট এলাকায় এ ৭টি ফিশিং বোট রাখা হয়। ৭টি ফিশিং বোটে প্রায় ৬০ জন লোক রয়েছে। গত ৩দিন ধরে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। তাদেরকে জনগণ পাহারা দিয়ে রেখেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাঙ্গু খালে বোটগুলো নোঙ্গর করে রাখা হয়। মাঝিমাল্লারা ক‚লে উঠে জনগণের সাথে খাওয়া-দাওয়া সারছেন। জানতে চাইলে আটককৃত বোটের মাঝি মো. মুছা মুঠোফোনে জানান, আমাদের সাথে কেউ কোন ধরণের খারাপ আচরণ করেনি। আমরা ভাল আছি। তবে কেন আমাদেরকে আটক করা হয়েছে তা আমরা জানি না। শুনেছি ডাকাত প্রতিরোধে সহযোগিতা করার জন্যই আমাদের বোট আটক করেছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, সাগরে আমাদের এলাকার লোকগুলো ফিশিং ট্রলার নিয়ে মাছ মারতে গেলে কুতুবদিয়ার চিহ্নিত জলদস্যুরা বোট ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সাগরে তাদের গুলিতে আরকান ও সেলিম নামে দুজন নিহত হয়েছে। জলদস্যুরা বোট ছিনতাই করে বিকাশের মাধ্যমে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বোটের মালিক থেকে ২২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে বোট হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। জলদস্যুদের প্রতিরোধে আমরা কুতুবদিয়ার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা পাচ্ছি না।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য ইসমাইল জানান, আমাদের এলাকার জনগণ ডাকাত প্রতিরোধে কুতুবদিয়া এলাকার লোকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পেতে ৭টি বোট সাগর থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। বোটগুলো ছিনতাই করা হয়নি।

এদিকে আনোয়ারা ও কুতুবদিয়ার বিরোধের কারণে সাগরে ফিশিং বোটসহ অন্যান্য বোটও চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে কুতুবদিয়ার যাত্রীবাহি সার্ভিস বোটও চলাচল করছে না। ফলে লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এছাড়া আনোয়ারার প্রায় আড়াই হাজার ফিশিং বোট ডাকাতের ভয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। ফিশিং ট্রলারগুলো নোঙ্গর করে ফেলে রাখা হয়েছে। মাঝি-মাল্লারা সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক অনটনে কষ্ট পাচ্ছে বলে জানান ইসমাইল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত