টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দিয়াজের

slচট্টগ্রাম, ২২  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর। রাত পার হলে সকালেই ঢাকা যাওয়ার কথা।কিন্তু রাতেই নিভে গেছে তার জীবন প্রদীপ। জানালেন দিয়াজের বড় বোন অ্যাডভোকেট জোবায়েদা সরোয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগ সহকারী পরিচালক হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল। গতকাল সে কাপড়-চোপড় গুছিয়ে রেখেছিল আজ সকালে ঢাকা যাবে বলে। কিন্তু তারা আমার ভাইকে যেতে দিল না। আমার ভাইকে একেবারে শেষ করে দিল। আমরা কিভাবে বাঁচব। আমাদের আর কিছুই রইল না।’ বলতে বলতে অ্যাডভোকেট জোবায়েদা আহাজারিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত দিয়াজ ইরফানের ভাড়া বাসায় এমন আহাজারিতে ভেঙ্গে পড়েন দিয়াজের স্বজনরা।

চিৎকার করতে করতে দিয়াজের বোন বলেন, ‘এই দেখো আমার ভাইয়ের লাইব্রেরীতে সব শেখ মুজিবের বই। আমার ভাই মুজিবের আদর্শে রাজনীতি করত বলেই তার এই করুণ পরিনতি।’

দিয়াজ ইরফানের নানি নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার নাতি দিনের বেলা পড়াশুনা করত। তাকে মারার অন্য শত্রু লেগে ছিল অনেক আগ থেকে। তাকে নিষেধ করেছিলাম এই বাসায় একা না থাকতে। সে শুনলো না আমাদের কথা। সে বলত, আমার কিছু হবে না। আমি কারো ক্ষতি করি নি। তাই আমার কিছুই হবে।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে দিয়াজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। প্রগতিশীল এই ছাত্রনেতা চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছিলেন বলে জানান তারা দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সতীর্থরা। পড়াশোনায়ও ছিলেন অদম্য মেধাবী। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ভর্তি হন। এরপর থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিবিরের আধিপত্য ছিল তখন থেকেই রাজনীতিতে হন তিনি।

তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আগে দিয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পড়াশুনা করেছেন। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় আবার ২য় বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চবিতে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের শুরুতে তিনি সম্পৃক্ত হন কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন চিটাগাং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (সিইউডিএস) সঙ্গে। জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরষ্কারও।

তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দিয়াজের অবস্থান দ্বিতীয়তে। বড় বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। আরেক বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাইলোজিতে ও অন্য বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের পড়ছেন। ছোট ভাই মিরাজ এবারই ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দিয়াজের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দিয়াজ ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে এমফিলের অধ্যয়নরত ছিলেন।

দিয়াজের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ সরোয়ার আলম জানান, ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দিয়াজের রাজনীতির দিকে বেশি ঝোঁক ছিল। তার পরিবারের প্রায় সকলেরই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক হওয়ার সময় দিয়াজ বিসিএস নন ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু রাজনীতির করার জন্যই এই সুযোগ বর্জন করে। সে সব সময় বলত, আমি বিসিএস দিলেই টিকব। তাই আমার এসব নিয়ে চিন্তা নেই।’

উল্লেখ্য, রোববার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় পাঁচতলা ভবনের ২য় তলার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ। দিয়াজের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে আসা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের ওই ভাড়া বাসায়। বাদ আসর জানাজার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের কবরস্থানে হাজারো অনুসারী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধার ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত