টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আমিলাইষে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় শত শত একর ফসলি জমি অনাবাদি , প্রান্তিক কৃষকরা বেকার

ইমরান
আমিলাইষ, সাতকানিয়া থেকে 

j

জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে

চট্টগ্রাম, ২১  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা গ্রাম ও দক্ষিন হিলমিলি গ্রামের পশ্চিম গাটিয়া ডেঙ্গা ও আমিলাইষ মৌজায় দুতিন ফসলি প্রায় ১ হাজার বিঘা জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে বছরে হাজার হাজার টন ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিগত সময় জমি চাষ করে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে সুখ-শান্তিতেই বসবাস করছিলেন। অতীতে এই বিলের পানি পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা মৌজার স্হিত “খান এর বাড়ী মুহাম্মদীয়া জামে মসজিদের”  পাশ দিয়েই আগে হিলমিলি খালে পানি নিষ্কাশন হতো। বর্তমানে উপরিউক্ত মসজিদটি নির্মান করে পানি নিষ্কাশন পথগুলো বাঁধ দিয়ে বন্ধ করায়  প্রায় ১ হাজার বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, সবার মত করে সাধারন জীবনের সাদা মাটা কল্পনায় বেড়ে উঠা মোহাম্মদ ইউসুফ।সংসারের দারিদ্রতা দূর করতে ১৯৯৮ তে পাড়ি দিয়েছিল মালেশিয়ায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দেশ বদলালে ও ভাগ্যকে বদলাতে পারেনি ইউসুফ। প্রবাস জীবনের জ্বালা জাতনার অষ্টপৃষ্টে নিমজ্জিত হয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন না করে বিলেত পেরত হয়ে সেই কৃষি পেশাকে আত্নার আত্নীয় করে পেলেন এই ইউসুফ। সুখেরই দিন যাচ্ছিল তার। তবে হতাশার গ্লানি যেন তার পরম বন্ধু।

প্রবাস ফেরত ইউসুফ যে আশা নিয়ে দেশে এসে সুন্দর জীবনের অভিমুখি হয়েছেন তার বড় বাঁধা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা গ্রাম ও দক্ষিন হিলমিলি গ্রামের পশ্চিম গাটিয়া ডেঙ্গা ও আমিলাইষ মৌজার প্রায় ৬শ বিঘা জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকা ফসলি জমি।

তার সাথে কথা বলে লক্ষ্য করলাম চোখে মুখে হাজারও কষ্টের প্রতিচ্ছবি। তার ভাষ্যমতে জলাবদ্ধতার কারনে তার মত হাজার ও কৃষকের বছরে হাজার টন ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অতীতে উক্ত বাসিন্দার কৃষকরা জমি চাষ করে ফসল উৎপাদন করে সুখ-শান্তিতেই বসবাস করছিলেন।

বিগত সময়ে এই বিলের পানি বর্তমানে তৈরীকৃত পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা মৌজার স্হিত “খান এর বাড়ী মুহাম্মদীয়া জামে মসজিদ” পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা মহল মালিক বাংলাদেশ সরকার অধীনে খাস দখলী জমি আর এস খতিয়ান নং-১০০৮ আর এস দাগ-৬২ বি এস খতিয়ান-৩০৫ এর বি এস দাগ-৮১( এক গন্ডা দুই কড়া)জমির উত্তরে মালেকের ভিটা,দক্ষিনে কবর,পূর্বে দাগের মসজিদ মাদ্রাসা ও পশ্চিমে হিলমিলি খাল। মসজিদের পাশ দিয়েই আগে হিলমিলি খালে পানি নিষ্কাশন হতো।

বর্তমানে উপরিউক্ত মসজিদটি নির্মান করে পানি নিষ্কাশন পথগুলো বাঁধ দিয়ে বন্ধ করায় দু’টি গ্রামের প্রায় ১ হাজার বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা ও চাটা বনের সৃষ্টি হয়েছে।

স্হানীয় সাংবাদিক আবু বক্কর মেহেদী বিষয়টি আমলে নিয়ে এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এবং তার মতে কেন পানি চলে যাচ্ছে না তার কারন খুজতে গিয়ে তিনি বলেন।পানি চলাচলে মসজিদ বাধাঁ। মানুষের জন্যে ধর্ম। ধর্মের জন্য মানুষ নই।তাতে করে মসজিদ সরাতে বলেননি তিনি। মসজিদের নিচে হোক বা পাশে হোক ওই স্হানে পানি চলাচলের জায়গা করার ব্যবস্হা গ্রহনের আশ্বাস দেন। তিনি ভালভাবে দেখলেন স্থানীয় কৃষকরা বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোহাম্মদ ইউসুপ, সুজা মিয়া, আবুল খাইর ,মোঃ সুলাইমান জানান, এই মাঠের জমিগুলো খুবই উর্বর। প্রতি বছর জমিগুলো থেকে তারা দু-তিনটি করে ফসল উৎপাদন করতেন।আলো, মরিচ শাক-সবজি ও পাট জাতীয় ফসল উৎপাদন ছাড়াও এখানকার মাঠে বোরো, আমন, আউষ ধানের চাষ উল্লেখ করার মতো ছিল। ফসল আবাদের জন্য ব্যক্তি মালিকানায় মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান তিনটি দমকল স্থাপন করেছিলেন। জলাবদ্ধতার কারণে সেসব দমকল বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।

তারা আরো জানান, মাঠের প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ মণ হিসেবে দু’দফায় অন্তত ৩০ মণ হারে ফসল হতো। অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমি থেকে বছরে ২০ হাজার মণ ফসল হতো। শুধুমাত্র জলবদ্ধতার কারণে গ্রামবাসী এ উৎপাদন থেকে দুই তিন বছর ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

জমির ফসলই স্থানীয় অধিকাংশ মানুষের একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল। গ্রামবাসীর প্রায় প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন আবুলা জানান, জলাবদ্ধতা তাদের দুর্ভোগ্যের মূল কারণ।দুই ইউনিয়নের মাঠের এই বিশাল পরিমাণ আবাদি জমিগুলো জলমুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। মাঠ থেকে পার্শ্ববর্তী হিলিমিলি খাল বরাবর পাইপ লাইনের মাধ্যমে অথবা রিং কালভার্ট নির্মাণ করা হলেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।

জলমুক্ত হলেই মাঠটিতে আবারো ফসলের হাসি দেখা দেবে ।

এই ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করার জন্য স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক আবুলা  ।

জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের মাঠটিতে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এর সমাধান হওয়া প্রয়োজন মনে করেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত